গত ২৬ অক্টোবরের ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপালে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া বাংলার পর্যটকদের ফেলে যাওয়া মালপত্র দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। হোটেল বা লজে পড়ে থাকা ওই প্রিয়জনদের নিত্যদিনের ব্যবহার্য সামগ্রী ও মালপত্রটুকুই এখন পরিবারের কাছে একমাত্র স্মৃতি। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই নেপালের শুল্ক দফতরকে চিঠি পাঠিয়েছে কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাস।
হিসাব অনুযায়ী, নেপালে ভোটেকোশী নদীর হড়পা বানের পর থেকে এ রাজ্যের মোট ৩৭ জন পর্যটকের সঙ্গে তাঁদের পরিবারের আর কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। এর মধ্যে একটি বেসরকারি ভ্রমণ সংস্থার মাধ্যমে কৈলাস যাত্রায় গিয়েছিলেন ৩২ জন। সর্বস্ব হারানোর আশঙ্কায় অনেক পরিবারই প্রিয়জনদের খোঁজে নিজেস্ব উদ্যোগে নেপালে ছুটে গিয়েছেন। সেখানে স্থানীয় থানা, হাসপাতাল, বিপর্যয়স্থল ও ভারতীয় দূতাবাসে ঘুরেও কোনো খোঁজ না মেলায় তাঁরা ভেঙে পড়েছেন। পরিজনদের পাশে দাঁড়িয়েছে রাজ্য প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ভ্রমণ সংস্থা।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পর্যটকেরা নেপালের হোটেলে তাঁদের ভারী ও অধিকাংশ মালপত্র রেখে সঙ্গের অল্প কিছু জিনিসপত্র নিয়ে মানস সরোবরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। সেই রেখে যাওয়া মালপত্রগুলিই এখন পরিবারের কাছে পরম প্রাপ্তি। এই সামগ্রীগুলি ভারতে নিরাপদে পাঠানোর জন্য নেপালের শুল্ক বিভাগের মহানির্দেশককের (ডিজি) কাছে সহায়তা চেয়ে চিঠি দিয়েছেন কাঠমান্ডুর ভারতীয় দূতাবাসের ইকোনমিক ফার্স্ট সেক্রেটারি গোল্ডি শর্মা। কাঠমান্ডু, রক্সৌল, বারাউনি ও গোবিন্দঘাট হয়ে এই মালপত্র রাজ্যে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
পাশাপাশি, নিখোঁজ পর্যটকদের শনাক্তকরণ ও উদ্ধারের কাজও চলছে। নেপালে গিয়ে পৌঁছানো পরিজনদের ডিএনএ নমুনা ইতিমধ্যেই সংগ্রহ করা হয়েছে। যাঁরা সেখানে যেতে পারেননি, পুলিশের সহায়তায় সরকারি স্তরে তাঁদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী ল্যাংট্যাং এলাকায় গত ২৬ অগস্ট হিমবাহ ভেঙে নেমে আসা জল ও কাদামাটির প্রবল স্রোতে লেন্দে খোলা, ভোটেকোশী এবং ত্রিশুলী নদীর অববাহিকা তছনছ হয়ে যায়। সেই বিপর্যয়ে এখনও পর্যন্ত ১,৩৫৬টি মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪,৯৯৪ জন।

