দক্ষিণ দিল্লির চাণক্যপুরীর কাছে সত্য নিকেতনের মোতিবাগ এলাকায় পাঁচতলা ছাত্রাবাস (মেসবাড়ি) ভেঙে সাতজনের প্রাণহানির ঘটনায় কড়া পদক্ষেপ শুরু হয়েছে। সোমবার এই বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দিল্লি হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি কে উপাধ্যায় পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, এই মর্মান্তিক ঘটনার দায় শুধু মেসবাড়ির মালিকের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না; এর দায় দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পুর কর্তৃপক্ষের (এমসিডি) উপরও বর্তাতে পারে। বিচারপতির মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেলের তীব্র অপ্রতুলতাই শিক্ষার্থীদের বাধ্য করছে এই ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিরাপদ পেয়িং গেস্ট (পিজি) বা হস্টেলে থাকতে।
এই ঘটনায় সোমবার রাজস্থানের ভিওয়াড়ি থেকে ভবনটির মালিক হরিরাম বনসলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে অবহেলা ও হত্যার অভিযোগে এফআইআর রুজু করা হয়েছে। পাশাপাশি, দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে পাঁচ জন পুর আধিকারিককে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাড়িটি অন্তত ৫০ বছর পুরনো এবং নব্বইয়ের দশকে ৪৯৫ বর্গফুট এলাকার উপর মাত্র দু’তলার অনুমোদিত নকশায় এটি তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে বেআইনিভাবে আরও তিনটি তলা বাড়ানো হয়। সাম্প্রতিক বৃষ্টির ফলে ভবনের বেসমেন্টে জল জমে যায় এবং সেখানে চলা সংস্কারের কাজের জন্যই এই ধস নেমেছে বলে প্রাথমিক অনুমান।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আসরে নেমেছে প্রশাসন। দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, স্কুল, কলেজ, হস্টেল, হাসপাতাল ও নার্সিং হোমসহ জনস্বার্থে ব্যবহৃত সমস্ত ভবনের নিরাপত্তা নিয়মিত যাচাই করতে একটি নতুন নীতি আনা হচ্ছে। প্রত্যেক ভবনে নিরাপত্তার শংসাপত্র বাধ্যতামূলক করা হবে এবং কোনো অসুরেরক্ষিত হস্টেল বরদাস্ত করা হবে না। অন্যদিকে, এই দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তরজাও শুরু হয়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এই ঘটনার জন্য দিল্লির তিন স্তরের বিজেপি প্রশাসনকে কাঠগড়ায় তুলেছেন। অপর দিকে, নিহতদের পরিবারপিছু ১ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতিপূরণ ও ঘটনার স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়ে হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়েছে।

