গত আইপিএলের সময় থেকেই চেন্নাই সুপার কিংস (CSK) কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মহেন্দ্র সিংহ ধোনির দূরত্ব বাড়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছিল। সম্প্রতি সেই দূরত্ব আরও প্রকট হয়েছে। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির শেয়ার বা অংশীদারিত্ব বণ্টন নিয়ে ধোনি ও দলীয় কর্তৃপক্ষের সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে এবং তা কার্যত তলানিতে ঠেকেছে।
শেয়ার কেনা নিয়ে মতপার্থক্য ও দরকষাকষি
আইপিএলের প্রথম সংস্করণ অর্থাৎ ২০০৮ সাল থেকেই চেন্নাই দলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছেন মহেন্দ্র সিংহ ধোনি। দলের সফলতম এই অধিনায়ক চেন্নাইয়ের হয়ে সর্বাধিক ম্যাচ খেলা ও সর্বাধিক রান করার রেকর্ডও গড়েছেন। ক্রিকেট কেরিয়ারের অন্তিম লগ্নে পৌঁছে যাওয়া ধোনি খেলোয়াড়সুলভ জীবন শেষ হওয়ার পরও ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির সঙ্গেই যুক্ত থাকতে চান এবং দলের অংশীদারিত্ব বা মালিকানা কিনতে আগ্রহী।
চেন্নাই কর্তৃপক্ষের ঘনিষ্ঠ এক সূত্র মারফত জানা গেছে, ধোনি শুরুতেই দলের ২৫ শতাংশ শেয়ার কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে তাঁর দেওয়া শর্ত বা শতাংশের অঙ্ক চেন্নাই কর্তৃপক্ষের পছন্দ হয়নি। এমনকি তাঁরা ২৫ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করতেও সম্পূর্ণ নারাজ। এর পর দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার দরকষাকষি হয়:
- প্রথমে চেন্নাই কর্তৃপক্ষ মাত্র ৩ শতাংশ মালিকানা বিক্রি করতে চাইলে ধোনি তা বাড়িয়ে ২০ শতাংশের প্রস্তাব দেন।
- এর জবাবে ফ্র্যাঞ্চাইজ়ি পক্ষ ৪ শতাংশ বিক্রির কথা বলে।
- এরপর তৃতীয় দফায় আলোচনা এগোলে ধোনি তাঁর প্রস্তাব কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামতে রাজি হন। কিন্তু চেন্নাই কর্তৃপক্ষ সাফ জানিয়ে দেন যে তাঁরা ৫.৫ শতাংশের বেশি শেয়ার বিক্রি করতে রাজি নন।
ওই সূত্রটি আরও জানিয়েছে, ধোনি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে কোনো শেয়ার চাননি, বরং তিনি তা কিনে নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু চেন্নাই কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা সম্পূর্ণ ভিন্ন। মজার বিষয় হলো, এই সমস্ত দরকষাকষি ও আলোচনা সম্পূর্ণ মৌখিকভাবেই হয়েছে, উভয় পক্ষের তরফ থেকে কোনো লিখিত প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি।
বর্তমান পরিস্থিতি ও আইপিএলে ধোনির ভূমিকা
বর্তমানে চেন্নাই দলে ঘরোয়া ক্রিকেটারের ক্যাটাগরিতে খেলছেন ধোনি। ২০২৫ সালের আইপিএলের মেগা নিলামে চেন্নাই কর্তৃপক্ষ তাঁকে ৪ কোটি টাকায় ধরে রেখেছিল। তবে চোট আঘাতের সমস্যার কারণে সাম্প্রতিক সময়ে তিনি খুব বেশি ম্যাচ খেলতে পারেননি এবং গত আইপিএলে একটি ম্যাচেও মাঠে নামা হয়নি মাহি-র। ক্রিকেট কেরিয়ারের শেষ পর্যায়ে এসে ফ্র্যাঞ্চাইজ়ির সঙ্গে এই মতপার্থক্য ভক্তদের মধ্যেও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

