প্রশ্নফাঁস রোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ভিডিও বার্তা ফেসবুক থেকে সাময়িকভাবে মুছে যাওয়ার ঘটনায় কঠোর অবস্থান নিল কেন্দ্র। এবার ফেসবুকের অভিভাবক সংস্থা মেটার ‘গ্লোবাল টিম’ বা বিশ্বব্যাপী পরিচালনা দলকে সরাসরি তলব করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই (PTI) সূত্রে জানা গিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে মেটার আন্তর্জাতিক আধিকারিকদের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করবেন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের আধিকারিকেরা। আগামী সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে মেটার এই প্রতিনিধি দল ভারতে পৌঁছাতে পারে। সরকারি কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের আগে সংসদীয় প্যানেলের (Parliamentary Panel) সামনেও তাঁদের উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
শিক্ষার্থী বিক্ষোভ ও দেশজুড়ে বিতর্কিত পরিস্থিতির আবহেই প্রশ্নফাঁস বন্ধ করতে একটি কঠোর খসড়া বিল আনার ঘোষণা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও বার্তা গভীর রাতে প্রধানমন্ত্রীর অফিসিয়াল সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা হয়। প্রধানমন্ত্রী সেখানে জানান, শুক্রবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে এবং পরবর্তীতে সংসদে বিলটি পেশ করা হবে।
তবে পোস্ট করার কিছুক্ষণের মধ্যেই রহস্যজনকভাবে ফেসবুক থেকে ওই ভিডিওবার্তাটি উধাও হয়ে যায়। যদিও পোস্টের ওপরের ক্যাপশনটি অবিকল বজায় ছিল, ভিডিও অংশটির জায়গায় ভেসে ওঠে একটি বার্তা— “আইনি অনুরোধের কারণে এই পোস্টটি ভারতে পাওয়া যাচ্ছে না।”
মেটার ক্ষোভপ্রকাশ ও কেন্দ্রের অসন্তোষ
ঘটনার পরপরই মেটার পক্ষ থেকে লিখিত বিবৃতি দিয়ে অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য ক্ষমা চাওয়া হয়। সংস্থার এক মুখপাত্র দাবি করেন, প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও সিস্টেমেিক ভুলের (Systemic Error) কারণে ভিডিওটি সাময়িকভাবে মুছে গিয়েছিল, যা পরবর্তীতে উদ্ধার করে পুনরায় সাইটে ফিরিয়ে আনা হয়।
তবে মেটার দেওয়া এই কারিগরি ব্যাখ্যায় একেবারেই সন্তুষ্ট নয় ভারত সরকার। কেন্দ্রীয় সরকারের একটি সূত্রের মতে, মেটার পেশ করা যুক্তি যথেষ্ট যৌক্তিক নয়। ইতিপূর্বেই মেটার জননীতি সংক্রান্ত (Public Policy) শীর্ষ আধিকারিককে তলব করেছিল ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। এবার সম্পূর্ণ বিষয়টি নিয়ে মেটার আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারক টিমের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা করতে চায় কেন্দ্র।
রাজনৈতিক গুরুত্ব ও সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা
সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন আপত্তিকর ভিডিও শনাক্তকরণ ও ছাত্র বিক্ষোভ কেন্দ্রিক উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই দেশের প্রধানমন্ত্রীর স্বঘোষিত ভিডিও বার্তা মুছে যাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে নয়াদিল্লি। সাম্প্রতিক বিভিন্ন আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি নিয়ন্ত্রণে সামাজিক মাধ্যমের ভূমিকা পর্যালোচনা করার পরেই মেটার বিরুদ্ধে এই কড়া অবস্থান গ্রহণ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার।

