শুভমন-ঈশানের জোড়া শতরানে ৪০০ পার ভারতের, আফগানদের ১৭০ রানে হারিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জয়

শুভমন-ঈশানের জোড়া শতরানে ৪০০ পার ভারতের, আফগানদের ১৭০ রানে হারিয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ জয়

আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় একদিনের ম্যাচে ১৭০ রানের বিশাল জয় তুলে নিল ভারতীয় ক্রিকেট দল। এই দাপুটে জয়ের ফলে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই তিন ম্যাচের ওডিআই (ODI) সিরিজ পকেটে পুরলেন শুভমন গিলের দল। বুধবার লখনউয়ের অটল বিহারী বাজপেয়ী স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাট করে ভারত ৪৯.৫ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ৪০২ রানের পাহাড় গড়ে। জবাবে ব্যাট করতে নেমে ৪৪.৩ ওভারে ২৩২ রানেই শেষ হয়ে যায় হাশমতুল্লা শাহিদির দলের ইনিংস। সিরিজের শেষ তথা আনুষ্ঠানিকতার ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২০ জুন, চেন্নাইয়ে।

শুভমন-ঈশানের আইপিএল মেজাজ ও রেকর্ড জুটি

এদিন লখনউয়ের ২২ গজে আফগান বোলারদের নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করলেন দুই ঘনিষ্ঠ বন্ধু শুভমন গিল ও ঈশান কিশন। টস জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান আফগান অধিনায়ক শাহিদির। শুরুতেই ওপেনার যশস্বী জয়সওয়াল (৪) বিদায় নিলে ক্রিজে আসেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা। শুভমন ও রোহিত দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে ৮৫ রান যোগ করে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন। তবে অতিরিক্ত আগ্রাসী হতে গিয়ে ৩৯ বলে ৪৮ রান (৬টি চার ও ২টি ছয়) করে রশিদ খানের স্পিনে পরাস্ত হন রোহিত।

রোহিতের আউটের পর ক্রিজে আসেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটার ঈশান কিশন। এরপরই শুরু হয় ‘গিল-কিশন’ ঝড়। ওডিআই ম্যাচ হলেও দুজনেই ব্যাট করতে থাকেন টি-টোয়েন্টির বা আইপিএলের মেজাজে। দুই বন্ধুর জুটিতে মাত্র ২৩.২ ওভারে ওঠে ২২৪ রান। ঈশান কিশন শুরু থেকেই ছিলেন বিধ্বংসী। মাত্র ৭৯ বলে ১২৫ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেন তিনি, যা সাজানো ছিল ১৪টি চার ও ৭টি ছক্কায়। এটি ওডিআই ক্রিকেটে তাঁর দ্বিতীয় শতরান। বড় শট খেলতে গিয়ে ঈশান আউট হওয়ার পর ইনিংসের হাল ধরে রাখেন শুভমন। শেষ পর্যন্ত ১১০ বলে ১৫৪ রানের এক অনবদ্য ম্যারাথন ইনিংস খেলে আউট হন ভারতীয় অধিনায়ক। তাঁর ইনিংসে ছিল ২২টি চার এবং ২টি ছক্কার মার। ওডিআই ইতিহাসে এই নিয়ে অষ্টম বার ৪০০ বা তার বেশি রান তোলার রেকর্ড গড়ল ভারত।

মিডল অর্ডারের ব্যর্থতা ও কোচ গম্ভীরের উদ্বেগ

ঈশান যখন আউট হন, তখন মনে হচ্ছিল ভারত অনায়েসেই ৪৫০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে যাবে। কিন্তু মিডল এবং লোয়ার অর্ডারের চরম ব্যর্থতায় তা সম্ভব হয়নি। ৫ নম্বরে নেমে শ্রেয়স আয়ার (২৬) কিছুটা চেষ্টা করলেও লোকেশ রাহুল প্রথম বলেই (০) খাতা না খুলে বিদায় নেন। এরপর ওয়াশিংটন সুন্দর (১৯), গুরনুর ব্রার (৭), অর্শদীপ সিংহ (৩), প্রিন্স যাদব (৫) ও কুলদীপ যাদবেরা (অপরাজিত ৫) ক্রিজে এলেও কেউই বলার মতো কোনো জুটি গড়তে পারেননি।

সহজ পরিস্থিতিতেও পরের দিকের ব্যাটারদের এই ব্যর্থতার কারণে দল পুরো ৫০ ওভারও ব্যাট করতে পারেনি (৪৯.৫ ওভারে ৪০২ রান)। মিডল অর্ডারের এই ব্যাটিং বিপর্যয় নিশ্চিতভাবেই চিন্তায় রাখবে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরকে। আফগানিস্তানের পক্ষে স্পিনার নাঙ্গেয়ালিয়া খারোতে ৭৬ রানে ৪টি এবং রশিদ খান ৪৮ রান খরচ করে ৩টি উইকেট নেন।

লক্ষ্যভ্রষ্ট আফগান ব্যাটিং ও ভারতীয় বোলারদের দাপট

জয়ের জন্য ৪০৩ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তানের ব্যাটারদের মধ্যে কখনো জয়ের আত্মবিশ্বাস দেখা যায়নি। ভারতীয় বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে তারা। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন চার নম্বরে নামা রহমত শাহ। ৮৭ বলে ৮টি চারের সাহায্যে ৭৮ রানের এক লড়াই-সংগ্রামী ইনিংস খেলেন তিনি।

ওপেনার রহমানুল্লা গুরবাজ ৩৩ বলে ৪১ রান (৭টি চার ও ১টি ছয়) এবং সেদিকুল্লা অটল ৫০ বলে ৪২ রান করে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন। এছাড়া অন্য ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান করেন ২১ রান। এই চার ব্যাটার বাদে আফগানিস্তানের আর কোনো ক্রিকেটার দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। দারউইশ রসুলি ৬ রান করে আহত হয়ে মাঠ ছাড়েন এবং শেষ দিকে রশিদ খান করেন ১২ রান। শেষ পর্যন্ত ৪৪.৩ ওভারে ২৩২ রানেই থামে আফগানদের লড়াই।

ভারতের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন অর্শদীপ সিংহ এবং গুরনুর ব্রার; দুজনেই ৩টি করে উইকেট শিকার করেন যথাক্রমে ৪৫ ও ৬০ রান খরচ করে। এছাড়া প্রিন্স যাদব ৫৬ রানে ২টি এবং ওয়াশিংটন সুন্দর ২৪ রানে ১টি উইকেট লাভ করেন। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে ভর করে এই দাপুটে জয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিল টিম ইন্ডিয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.