মেয়েদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের দুর্দান্ত ফর্ম বজায় রেখে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিল ভারত। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের পর এবার নেদারল্যান্ডসকে ৯৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে দিলেন হরমনপ্রীত কৌরেরা। ভারতের ছুঁড়ে দেওয়া ২১০ রানের পাহাড়প্রমাণ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মাত্র ১১৪ রানেই গুটিয়ে যায় ডাচদের ইনিংস। ব্যাট হাতে স্মৃতি মন্ধানা ও শেফালি বর্মার বিধ্বংসী অর্ধশতরানের পর বল হাতেও ভারতের বোলারদের দাপটে অসহায় আত্মসমর্পণ করে নেদারল্যান্ডস।
স্মৃতি-শেফালির ব্যাটে রানের পাহাড়
বুধবার ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ভারতকে প্রথমে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান নেদারল্যান্ডসের অধিনায়ক বাবেত্তে ডি লিড। তবে ডাচ অধিনায়কের এই সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করতে বেশি সময় নেননি ভারতের দুই ওপেনার। প্রথম উইকেটেই ভারতীয় দলকে মজবুত ভিত এনে দেন স্মৃতি মন্ধানা ও শেফালি বর্মা।
সহ-অধিনায়ক স্মৃতি মন্ধানা ৪৭ বলে ৭৪ রানের একটি চোখধাঁধানো ইনিংস খেলেন, যা সাজানো ছিল ১১টি চার এবং ১টি ছক্কায়। অপর প্রান্তে থাকা আক্রমণাত্মক ওপেনার শেফালি বর্মাও কম যাননি; ৩৮ বলে ৫৫ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১০টি চার।
দুই ওপেনারের বিদায়ের পর জেমাইমা রদ্রিগেজ ১৩ বলে ১৯ রান এবং অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর ৯ বলে ১২ রান করে প্যাভিলিয়নে ফেরেন। তবে শেষদিকে ভারতীয় ইনিংসের গতি বাড়ান উইকেটরক্ষক-ব্যাটার রিচা ঘোষ ও দীপ্তি শর্মা। শিলিগুড়ির রিচা মাত্র ৮ বলে ১টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে ২০ রান করে অপরাজিত থাকেন। অন্যদিকে মাত্র ২ বল খেলার সুযোগ পেয়ে ১টি চার ও ১টি ছক্কার সাহায্যে ১০ রান করে অপরাজিত থাকেন দীপ্তি শর্মা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ২০৯ রান। নেদারল্যান্ডসের পক্ষে ৩২ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন ক্যারোলিন ডি ল্যাঙ্গ এবং ৩১ রানে ১ উইকেট নেন হেথার সিগার্স।
ডাচ শিবিরের ব্যর্থতা ও ভারতীয় বোলারদের দাপট
জয়ের জন্য ২১০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতীয় বোলিং আক্রমণের মুখে শুরু থেকেই নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারাতে থাকে নেদারল্যান্ডস। ডাচ ব্যাটারদের কেউই ভারতীয় বোলারদের সামনে দাঁড়াতে পারেননি। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন অধিনায়ক বাবেত্তে ডি লিড, তাঁর ২৭ বলে ২৮ রানের ইনিংসে ছিল ৩টি চার।
ওপেনার হেথার সিগার্স ১৬ বলে ২১ রান (৪টি চার) করে আউট হন। এছাড়া ফেবে মকেনবোর (১৫) এবং স্টের কালিস (১৮) সামান্য প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও তা ব্যবধান কমানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত ১৭.৩ ওভারে মাত্র ১১৪ রানেই শেষ হয়ে যায় নেদারল্যান্ডসের ইনিংস।
ভারতের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল শ্রী চরণী; তিনি মাত্র ১৯ রান খরচ করে একাই তুলে নেন ৪টি উইকেট। তবে ম্যাচের অন্যতম বড় চমক ছিল ওপেনার শেফালি বর্মার বোলিং। ব্যাটিংয়ে অর্ধশতরানের পর বল হাতেও জ্বলে উঠে ২০ রান দিয়ে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন তিনি। এছাড়া ২২ রানে ২ উইকেট পান নন্দিনী শর্মা এবং ২৬ রান দিয়ে ১টি উইকেট শিকার করেন অলরাউন্ডার দীপ্তি শর্মা। অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ভর করে এই বড় জয়ের ফলে টুর্নামেন্টের নক-আউট পর্বের দৌড়ে অনেকটাই এগিয়ে গেল ভারত।

