রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর মাত্র ৩৫ দিন অতিক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যেই নব্য গঠিত বিজেপি সরকার এবং নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর একাধিক বড় পদক্ষেপ ও ঘোষণা নিয়ে রাজ্য ছাড়িয়ে জাতীয় স্তরেও আলোচনা শুরু হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে, শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সরকারের এক মাসের অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ রূপরেখা স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী।
আনন্দবাজার অনলাইন-এর পক্ষ থেকে ‘এক মাসে সরকারের সেরা অর্জন কোনটি?’ জানতে চাওয়া হলে মুখ্যমন্ত্রী নিজের কাজের মূল্যায়নের দায়ভার জনগণের ওপর ছেড়ে দেন। তবে একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, ব্যবস্থা পরিবর্তনের এক বড় লক্ষ্য নিয়ে তাঁর সরকার কাজ শুরু করেছে।
মোদী সরকারের ১২ বছরের খতিয়ান ও তৃণমূলকে আক্রমণ
মূলত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের ১২ বছর পূর্তি উপলক্ষেই এই সাংবাদিক সম্মেলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার, দুই রাজ্য সাধারণ সম্পাদক লকেট চট্টোপাধ্যায় ও শশী অগ্নিহোত্রী, সহ-সভানেত্রী তনুজা চক্রবর্তী এবং মিডিয়া কনভেনর বিমলশঙ্কর নন্দ।
সাংবাদিক সম্মেলনে গত ১২ বছরে মোদী সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের খতিয়ান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি পরিসংখ্যান দিয়ে দেখান, অতীতে রাজ্যে বিজেপি সরকার না থাকা সত্ত্বেও ইউপিএ (UPA) জমানার তুলনায় এনডিএ (NDA) জমানায় কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গকে কত বেশি অর্থ বরাদ্দ করেছে। পাশাপাশি, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক কেন্দ্রীয় প্রকল্প রাজ্যে আটকে রাখা এবং তহবিলের টাকা লুটের অভিযোগও তোলেন তিনি।
১০০ দিনের কাজের বকেয়া ও নতুন ‘জিরামজি’ প্রকল্প
মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রের সঙ্গে নতুন সরকারের সুসমন্বয়ের ফলে গত এক মাসে বিভিন্ন খাতে কেন্দ্রীয় বরাদ্দ আসতে শুরু করেছে। এই প্রসঙ্গে তিনি ‘মনরেগা’ (১০০ দিনের কাজ) প্রকল্পের কথা উল্লেখ করেন। এই প্রকল্পের মেয়াদ আর মাত্র তিন সপ্তাহ বাকি থাকলেও, এই সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যই কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গের জন্য ৭০০ কোটি টাকা মঞ্জুর করেছে। এরপরই ১০০ দিনের কাজের বিকল্প হিসেবে রাজ্যে ১২৫ দিনের কাজের ‘জিরামজি’ প্রকল্প চালু হতে চলেছে। চলতি অর্থবর্ষের বাকি সময়ের জন্য এই ‘জিরামজি’ প্রকল্পে ইতিমধ্যেই ৫,৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চিত করেছেন।
এক মাসের অগ্রাধিকার ও সাফল্য
সরকারের এক মাসের সবচেয়ে বড় সাফল্য কোনগুলি—এই প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন:
“মাত্র ৩২-৩৪ দিনে সরকারের মূল্যায়ন করা খুব মুশকিল। তবে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য বিএসএফ (BSF)-কে জমি হস্তান্তর, অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণ ও বহিষ্কারের ব্যবস্থা করা এবং জাতীয় জনগণনার (Census) কাজ চালু করা—এই বিষয়গুলিকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছি।”
তিনি আরও যোগ করেন, দেশের অন্য ২১টি বিজেপি বা এনডিএ শাসিত রাজ্যের মানুষ যে সমস্ত জনকল্যাণমূলক সুবিধা পাচ্ছেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এত দিন তা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। নতুন সরকার সেই সুবিধাগুলি বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত শুরু করেছে।
“সময় দিন, ব্যবস্থার পরিবর্তন দেখতে পাবেন”
নিজের মূল্যায়নের চেয়ে জনগণের রায়ের ওপর ভরসা রেখে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমি মূল্যায়নের ভার জনগণের উপরেই ছেড়ে দিতে চাই। তবে জনগণকে বলব, আমাদের একটু সময় দিতে হবে। যা অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে করা দরকার, তা আমরা করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব।”
নতুন সরকারের কাজের প্রকৃত মূল্যায়ন চলতি অর্থবর্ষ শেষে, অর্থাৎ ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের পর করার পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। আত্মবিশ্বাসের সুরে শুভেন্দু অধিকারী বলেন:
“আগামী অর্থবর্ষের শেষে যখন মূল্যায়ন করবেন, তখন বুঝতে পারবেন যে এই সরকার শুধুমাত্র দল, পতাকা, ব্যক্তি, মুখ বা নামের পরিবর্তন ঘটাতে আসেনি; সামগ্রিক ব্যবস্থা এবং স্বাদেরও পরিবর্তন ঘটে গিয়েছে।”

