টলিউডের ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস বর্তমানে শ্রীঘরে। তাঁর এই গ্রেফতারির পর টলিপাড়ার সমীকরণ নিয়ে অবশেষে মুখ খুললেন বিশিষ্ট অভিনেতা ও পরিচালক অনির্বাণ ভট্টাচার্য। গত দু’বছর ধরে স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে অনির্বাণের মনস্তাত্ত্বিক ও পেশাদারি সংঘাত ইন্ডাস্ট্রির কারও অজানা ছিল না। পরিচালকদের কর্মবিরতির আন্দোলনে প্রথম সারিতে থাকার অপরাধে অনির্বাণকে অলিখিতভাবে ‘ব্যান’ বা বয়কট করা হয়েছিল বলেও টলিপাড়ায় গুঞ্জন ছিল। ৪ জুন স্বরূপের গ্রেফতারির পর এই বিষয়ে নিজের প্রতিক্রিয়া জানালেন অভিনেতা।
দীর্ঘ দুই বছরের স্নায়ুর লড়াই ও বয়কট প্রসঙ্গ
২০২৫ সালে ‘রঘু ডাকাত’ ছবিটির মুক্তির পর থেকে অনির্বাণ ভট্টাচার্যকে রূপোলি পর্দায় সেভাবে আর দেখা যায়নি। জানা গেছে, ফেডারেশনের কোপদৃষ্টির কারণেই কাজ পাচ্ছিলেন না তিনি। চলতি বছরের শুরুতে অভিনেতা দেব প্রকাশ্যে অনির্বাণের হয়ে ক্ষমা চাইলেও স্বরূপ বিশ্বাসের মন গলেনি। তবে অন্য পরিচালকেরা অনির্বাণের পক্ষে দাঁড়ালেও, নিজে কখনো মাথা নোয়াননি বা ক্ষমা চাননি অনির্বাণ। বরং নীরব বিদ্রোহ জারি রেখেছিলেন তিনি।
‘আমরা সব জানতাম বলেই বিরোধিতা করেছিলাম’
শুক্রবার শহরের এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে অনির্বাণ জানান, এই লড়াইটা কেবল তাঁর একার ছিল না। স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারি প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন:
“অনেকে লড়াই করেছেন, আমি একা নই। আমি তো ইন্ডাস্ট্রির আলোর দিকের মানুষ, গ্ল্যামারের দুনিয়ায় অভিনেতাদের অবাধ চলাফেরা। তবে ইন্ডাস্ট্রির যাঁরা টেকনিশিয়ান বা কলাকুশলী— যাঁরা উপার্জনের দিক থেকে কিংবা গ্ল্যামারের দিক থেকে অনেকটা পেছনে রয়েছেন— তাঁরা অনেক বেশি ভুগেছেন। আর স্বরূপ বিশ্বাস গ্রেফতার হওয়ার পরেই যে লোকে সবটা জেনেছে, তেমন নয়। আমরা এগুলো জানতাম বলেই এর বিরোধিতা করেছিলাম।”
নতুন কাজে ফিরছেন অনির্বাণ
টলিউডের এই প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে বর্তমানে একগুচ্ছ দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এবং তা নিয়ে তদন্ত চলছে। অন্যদিকে, সমস্ত বাধা কাটিয়ে অনির্বাণ ভট্টাচার্য আবার চেনা ছন্দে শুটিং ফ্লোরে ফিরেছেন। দেব ও শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের আসন্ন ছবি ‘দেশু ৭’ (Deshu 7)-এ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যাবে অনির্বাণকে।
স্বরূপের পতনের পর টলিপাড়ার এই দীর্ঘদিনের ‘একনায়কতন্ত্র’ ও বয়কটের সংস্কৃতির অবসান ঘটবে বলেই আশা করছেন ইন্ডাস্ট্রির একাংশ।

