চার দশকের আড়াল ভেঙে প্রথমবার ক্যামেরার সামনে সানি-পত্নী পূজা: স্ত্রীর আড়ালে থাকার রহস্য ফাঁস করলেন অভিনেতা

চার দশকের আড়াল ভেঙে প্রথমবার ক্যামেরার সামনে সানি-পত্নী পূজা: স্ত্রীর আড়ালে থাকার রহস্য ফাঁস করলেন অভিনেতা

বলিউড সুপারস্টার সানি দেওলের চার দশকের দীর্ঘ অভিনয় জীবনে তাঁর স্ত্রী পূজাকে কোনো ফিল্মি পার্টি, প্রিমিয়ার কিংবা লাইমলাইটে (প্রচারের আলোয়) দেখা যায়নি। বলিপাড়ার অন্যতম বড় রহস্য ছিল সানি দেওলের বৈবাহিক জীবন ও তাঁর স্ত্রীর এই দীর্ঘ অন্তরাল। তবে সম্প্রতি সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো ক্যামেরার সামনে একসঙ্গে ধরা দিলেন এই তারকা দম্পতি। একই সাথে সানি দেওল নিজেই স্পষ্ট করলেন— কেন এতদিন তাঁর স্ত্রী ক্যামেরার আড়ালে ছিলেন।

প্রথম ছবি এবং বিয়ের ধোঁয়াশা

১৯৮৩ সালে সানি দেওলের ডেবিউ ছবি ‘বেতাব’ মুক্তি পায়। সেই সময় রূপোলি পর্দায় তাঁর সহ-অভিনেত্রী অমৃতা সিংহের সঙ্গে সানির প্রেমের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু তার ঠিক এক বছর পরেই, ১৯৮৪ সালে লন্ডনের বাসিন্দা পূজার সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সানি। তৎকালীন সময়ে একটি জনপ্রিয় পত্রিকায় অভিনেতার বিয়ের ছবি প্রকাশিত হলেও, সানি নিজে সেই খবরের সত্যতা পুরোপুরি অস্বীকার করেছিলেন।

ফলে সানি বিবাহিত কি না, তা নিয়ে দীর্ঘকাল এক বড় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল অনুরাগীদের মনে। এরপর ১৯৯০ সালে সানি ও পূজার প্রথম সন্তান কর্ণ দেওলের জন্ম হয়। তবে নিজের দাম্পত্যজীবন নিয়ে বরাবরই সংবাদমাধ্যমের সামনে কঠোর নীরবতা বজায় রেখেছিলেন ধর্মেন্দ্র-পুত্র।

ছেলের বিয়েতে ভাঙল দীর্ঘ অন্তরাল

দীর্ঘ বছর পর অবশেষে প্রথমবার ছেলের বিয়েতে পরিবারের সাথে দেখা মিলল তারকা-পত্নী পূজার। সম্প্রতি মুম্বই বিমানবন্দরে স্ত্রীকে সঙ্গে করেই গাড়ি থেকে নামেন সানি দেওল। সেখানে উপস্থিত ছবিশিকারিরা (পাপারাৎজি) তাঁদের একসঙ্গে ছবি তোলার অনুরোধ জানালে, সানি এবার আর কোনো আপত্তি করেননি। হাসিমুখে স্ত্রীর সঙ্গে ক্যামেরায় পোজ দেন অভিনেতা।

সানির নির্দেশেই কি আড়ালে ছিলেন পূজা? বহু বছর ধরে বলিপাড়ায় গুঞ্জন ছিল যে, দেওল পরিবারের রক্ষণশীল নিয়মকানুন এবং সানি দেওলের কঠোর নির্দেশেই হয়তো পূজাকে কখনও জনসমক্ষে আসতে দেওয়া হতো না। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গে মুখ খুলে আসল সত্য সামনে এনেছেন সানি।

“সিদ্ধান্তটি সম্পূর্ণ পূজার নিজস্ব”: সানি দেওল

সাক্ষাৎকারে সানি দেওল স্পষ্ট জানান, স্ত্রীর এই দীর্ঘকাল প্রচারের আলো থেকে দূরে থাকার পিছনে তাঁর বা তাঁর পরিবারের কোনো হাত নেই। এই জীবনযাত্রা পূজা নিজেই সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় বেছে নিয়েছেন।

সানি বলেন, “আমি কিংবা আমার বাবা (কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র) কখনও আমাদের স্ত্রীদের আড়ালে থাকতে বাধ্য করিনি। আমরা আমাদের বাড়ির মহিলাদের ওপর কোনো ধরনের নিয়ম বা বিধিনিষেধ চাপিয়ে দিইনি। পূজার নিজেরই কখনও প্রচারের আলোয় আসার ইচ্ছে ছিল না।”

অভিনেতা আরও জানান যে, পূজা একসময় অভিনেত্রী হতে চাইলেও পরবর্তীতে গ্ল্যামার দুনিয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন এবং নিজের ভালোলাগা থেকে ‘লেখালেখি’কেই নিজের জীবিকা হিসেবে বেছে নেন। ফলে কোনো পারিবারিক চাপ নয়, বরং সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত পছন্দ থেকেই দীর্ঘ চার দশক নিজেকে লাইমলাইট থেকে দূরে রেখেছিলেন এই তারকা-পত্নী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.