২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বেনজির পদক্ষেপ কমিশনের: গণনার পর ফের ভোট ফলতায়!

২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বেনজির পদক্ষেপ কমিশনের: গণনার পর ফের ভোট ফলতায়!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে এক অভূতপূর্ব ও বেনজির সিদ্ধান্তের সাক্ষী হতে চলেছে পশ্চিমবঙ্গ। আগামী সোমবার (৪ মে) রাজ্যের সর্বত্র ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা হলেও, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণ করা হবে নির্বাচনের ফল প্রকাশের ঠিক পরেই। নির্বাচন কমিশনের এই ঘোষণায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।


২১ মে পুনর্নির্বাচন, গণনা ২৪ মে

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২১ মে। এই কেন্দ্রের ভোট গণনা হবে তার তিন দিন পর, অর্থাৎ ২৪ মে। সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর এভাবে পুনরায় ভোটগ্রহণের ঘটনা ভারতীয় সংসদীয় গণতন্ত্রে অত্যন্ত বিরল। কমিশন একটি বিশেষ আইন (Special Act) প্রয়োগ করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।


কেন এই বেনজির সিদ্ধান্ত?

গত ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার নির্বাচনে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। অভিযোগের পাহাড় জমেছিল কমিশনের দফতরে:

  • ইভিএম কারচুপি: ভোটারদের একাংশ অভিযোগ করেন যে, বুথে ইভিএম মেশিনে বিজেপির প্রতীকের ওপর টেপ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
  • সিসিটিভি বিভ্রাট: একাধিক বুথে সিসিটিভি ক্যামেরার লেন্সেও টেপ লাগিয়ে নজরদারি বন্ধ করার অভিযোগ ওঠে।
  • ভোটারদের বাধা: বিরোধীদের দাবি ছিল, ভোটারদের বুথে আসতে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং ভয় দেখানো হয়েছে।

শনিবার যখন পার্শ্ববর্তী মগরাহাট পশ্চিম এবং ডায়মন্ড হারবারে পুনর্নির্বাচন চলছিল, তখন ফলতার স্থানীয় বাসিন্দারা রিপোলের দাবিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখে কমিশন শেষ পর্যন্ত এই চরম পদক্ষেপ গ্রহণ করল।


মগরাহাট ও ডায়মন্ড হারবারে মিটল পুনর্নির্বাচন

ফলতার এই বড় ঘোষণার পাশাপাশি আজ, শনিবার মগরাহাট পশ্চিম ও ডায়মন্ড হারবারের নির্দিষ্ট বুথগুলিতে পুনর্নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার কমিশন মগরাহাট পশ্চিমের ১১টি এবং ডায়মন্ড হারবারের ৪টি বুথে ভোটগ্রহণের নির্দেশ দিয়েছিল।

আজকের ভোটের হার (বিকেল ৫টা পর্যন্ত):

  • মগরাহাট পশ্চিম: প্রায় ৮৬%
  • ডায়মন্ড হারবার: প্রায় ৮৮%

পুনর্নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। তবে সোমবার গণনার পর ফলতার রাজনৈতিক সমীকরণ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। রাজ্য রাজনীতিতে এটি কেবল একটি আসনের লড়াই নয়, বরং অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের প্রশ্নে কমিশনের বিশ্বাসযোগ্যতার বড় পরীক্ষা হতে চলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.