দেশের রাজধানী দিল্লির সফদরজং এলাকায় এক বিচারকের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শনিবার দুপুরে উদ্ধার হওয়া ওই বিচারকের নাম অমন কুমার শর্মা। প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশের অনুমান, তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা বজায় রয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর পৌনে ২টো নাগাদ সফদরজং এনক্লেভ থানায় একটি ফোন আসে। বিচারকের এক আত্মীয় পুলিশকে এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর দেন। খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে হাসপাতালের চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
দিল্লি পুলিশের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে জানিয়েছেন:
“ঘটনাস্থল থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও সন্দেহজনক সূত্র মেলেনি। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখছি।”
কর্মজীবন ও পরিচয়
সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী, ২০২১ সালের ১৯ জুন দিল্লির বিচারবিভাগীয় পরিষেবায় যোগ দিয়েছিলেন অমন কুমার শর্মা। তাঁর শিক্ষাগত ও পেশাগত জীবন ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল:
- শিক্ষা: তিনি পুনের খ্যাতনামা ‘সিমবায়োসিস ল’ স্কুল’ থেকে ২০১৮ সালে বিএ-এলএলবি ডিগ্রি অর্জন করেন।
- পেশা: দিল্লিতে কর্মরত অবস্থায় তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফৌজদারি এবং দেওয়ানি মামলার বিচার প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তদন্তের গতিপ্রকৃতি
পুলিশ বিচারকের মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তাঁর আত্মীয়স্বজন এবং সহকর্মীদের বয়ান সংগ্রহ করছে। তিনি কি কোনও ব্যক্তিগত কারণে মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন, নাকি পেশাগত কোনও চাপ ছিল— সব দিকই খতিয়ে দেখছে দিল্লি পুলিশ। ৪ মে সারা দেশে যখন বিভিন্ন খবরের দিকে নজর রয়েছে, তখন রাজধানীর এই ঘটনা বিচারবিভাগীয় মহলে শোকের ছায়া ফেলেছে।
ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট হাতে এলেই এই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন। বর্তমানে ওই বিচারকের বাসভবন এলাকাটি কড়া পুলিশি পাহারায় রয়েছে।

