প্রচারে গতি বাড়াতে ‘কার্পেট বম্বিং’ রণকৌশল বিজেপির, নিজের হেলিকপ্টার ছাড়লেন অমিত শাহ

প্রচারে গতি বাড়াতে ‘কার্পেট বম্বিং’ রণকৌশল বিজেপির, নিজের হেলিকপ্টার ছাড়লেন অমিত শাহ

পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারের শেষ লগ্নে রাজ্যজুড়ে ‘কার্পেট বম্বিং’ বা আকাশপথে ব্যাপক প্রচারের কৌশল নিয়েছে বিজেপি। দলের তারকা প্রচারকদের দ্রুত এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে পৌঁছে দিতে হেলিকপ্টারের ব্যবহার সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছেন গেরুয়া শিবির। এমনকি, প্রচারের এই গতি বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নিজের জন্য বরাদ্দ হেলিকপ্টারটিও দলের অন্য নেতাদের জন্য ছেড়ে দেওয়ার নজির তৈরি করেছেন।

প্রচারের নতুন রণকৌশল

বিজেপি নেতারা মনে করছেন, আকাশপথে রাজ্যের প্রতিটি প্রান্তে পৌঁছে প্রচার চালানোয় যে তীব্রতা তৈরি হয়েছে, তাকে রূপকার্থে ‘কার্পেট বম্বিং’-এর সঙ্গে তুলনা করা যায়। প্রতিদিন বহু কর্মসূচি থাকায় এবং দূরবর্তী জেলাগুলিতে দ্রুত পৌঁছানোর প্রয়োজনে হেলিকপ্টারের ওপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে বিজেপি।

অমিত শাহের নজিরবিহীন পদক্ষেপ

শনিবার এমন এক ঘটনার সাক্ষী হয়েছে রাজ্যের রাজনৈতিক মহল, যেখানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তাঁর নির্ধারিত হেলিকপ্টারটি ব্যবহারের জন্য কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারকে ছেড়ে দেন। শাহের জনসংযোগ কর্মসূচি দুপুরের পর থাকলেও, সকাল থেকেই সুকান্তের চারটি রোড শোয়ের জন্য সেই কপ্টারটি ব্যবহার করা হয়। পাইলটদের কাছ থেকে জানা যায়, এটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্যই বরাদ্দ ছিল এবং অত্যন্ত আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন। প্রচারের স্বার্থে শাহ নিজের নিরাপত্তা প্রোটোকল ও সুবিধাকে উপেক্ষা করে এই সিদ্ধান্ত নেন।

হেলিকপ্টারের বহর ও ব্যবস্থাপনা

নির্বাচন উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে হেলিকপ্টারের চাহিদা তুঙ্গে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জন্য ভারতীয় বায়ুসেনার তিনটি কপ্টার কলকাতা বিমানবন্দরে থাকে। জরুরি প্রয়োজনে অতিরিক্ত দু’টি কপ্টারও স্ট্যান্ডবাই হিসেবে রাখা হয়। তবে শনিবার প্রধানমন্ত্রী রাজ্যে না থাকায় সেই অতিরিক্ত কপ্টারগুলো ছিল না। বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের অন্য নেতাদের জন্য যে হেলিকপ্টার ব্যবস্থা করা হয়েছে, তা ব্যবহার করে শমীক ভট্টাচার্য, রাজনাথ সিংহ, জেপি নড্ডা, যোগী আদিত্যনাথ, স্মৃতি ইরানি এবং হিমন্ত বিশ্বশর্মার মতো নেতারা রাজ্য চষে বেড়াচ্ছেন।

প্রচারে ‘স্লগ ওভার’

নির্বাচনের শেষ কয়েক দিনে দক্ষিণবঙ্গে প্রচারে গতি আনতে মরিয়া বিজেপি। একদিকে রোড শো, অন্যদিকে জনসভা—সব মিলিয়ে প্রচারের এই ‘স্লগ ওভারে’ সময় বাঁচানোই তাদের মূল লক্ষ্য। সুকান্ত মজুমদারকে মেমারিতে নামিয়ে কপ্টারটি দ্রুত কলকাতায় ফিরে আসে শাহকে নিয়ে বর্ধমানের জামালপুরের জনসভায় রওনা দেওয়ার জন্য। বিজেপির অন্দরের খবর, পরিস্থিতি ও সময়ের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শাহের মতো শীর্ষ নেতারাও ব্যক্তিগত প্রোটোকল শিথিল করে দলের প্রচারে গতি সঞ্চার করছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রচারের এই আকাশপথের কৌশল তৃণমূল কংগ্রেসের ওপর পাল্টা চাপ সৃষ্টির একটি অংশ হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.