শীত বিদায় নিয়ে গরমের আমেজ শুরু হতেই রাজ্যজুড়ে এক নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে অজানা জ্বরের প্রকোপ। শুধু ছোটরা নয়, বড়দের মধ্যেও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এই সংক্রমণ। জ্বর না কমা এবং লাগাতার পেটের সমস্যার কারণে জনস্বাস্থ্য নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন চিকিৎসকরা।
কেন বাড়ছে সংক্রমণ? কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের বিশিষ্ট চিকিৎসক অরুণাংশু তালুকদার জানান, তাপমাত্রার পরিবর্তনের সাথে সাথে বেশ কিছু ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়া তাদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে পরিবর্তন (মিউটেশন) ঘটিয়েছে। এর ফলে অ্যাডিনোভাইরাস, নোরোভাইরাস এবং রোটাভাইরাসের মতো অতি পরিচিত ভাইরাসগুলো এখন আরও বেশি সংক্রামক হয়ে উঠেছে। চিকিৎসকের মতে, এই ভাইরাসগুলোর রূপ পরিবর্তনের কারণেই বর্তমানে জ্বর ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হচ্ছে।
ভাইরাস ও উপসর্গের ধরণ: বিশেষজ্ঞদের মতে, পেটের সমস্যার মূল হোতা রোটাভাইরাস ও ‘হিউম্যান অ্যাডিনোভাইরাস-এফ’ (এইচএডিভি-এফ)। সংক্রমণের লক্ষণগুলো নিচে দেওয়া হলো:
- প্রধান উপসর্গ: ঘন ঘন বমি ও ডায়েরিয়া, প্রচণ্ড পেটে ব্যথা, জ্বর, মাথা ধরা এবং শরীর ব্যথা।
- সংক্রমণ কাল: সাধারণত আক্রান্ত হওয়ার ১২ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লক্ষণ প্রকাশ পায়, তবে বর্তমানে সংক্রমণের স্থায়িত্ব ১০ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত হতে পারে।
- বিপদ: পাঁচ বছরের নিচে থাকা শিশুদের ক্ষেত্রে রোটাভাইরাসের সংক্রমণ প্রাণঘাতী হতে পারে। এছাড়া অন্ত্রের প্রদাহ ও তীব্র জলশূন্যতা (ডিহাইড্রেশন) রোগীর অবস্থা জটিল করে তুলতে পারে।
সতর্কতামূলক ব্যবস্থা: সংক্রমণ রুখতে এবং সুস্থ থাকতে চিকিৎসকরা একগুচ্ছ পরামর্শ দিয়েছেন:
- খাবার ও পানীয়: রাস্তার খোলা খাবার, জল, লস্যি বা শরবত সম্পূর্ণ বর্জন করতে হবে। বাজার থেকে আনা সবজি, ফল, কাঁচা মাছ-মাংস ভালো করে ধুয়ে রান্না করা প্রয়োজন। শাকপাতা নুন-গরম জলে ধুয়ে নিলে ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমে।
- পরিচ্ছন্নতা: ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি। খাওয়ার আগে ও বাইরে থেকে ফিরে সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধোয়া বাধ্যতামূলক। আক্রান্ত ব্যক্তিকে সম্ভব হলে আলাদা রাখা প্রয়োজন।
- বাসি খাবার: ফ্রিজে রাখা বাসি খাবার বা কেটে রাখা ফল এড়িয়ে চলাই ভালো।
চিকিৎসকের পরামর্শ: ভাইরাসঘটিত অসুখে স্বচিকিৎসা বা নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক গ্রহণ করা অত্যন্ত বিপজ্জনক বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। বমি বা ডায়েরিয়ার কারণে শরীর দ্রুত জলশূন্য হয়ে পড়ে, যার ফলে প্রচণ্ড দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই উপসর্গ দীর্ঘস্থায়ী হলে বা তীব্র আকার ধারণ করলে অবিলম্বে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এবং প্রয়োজনে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

