ইসলামাবাদে আমেরিকা-ইরান শান্তি বৈঠক: দুই দফার আলোচনা শেষ, মাঝ আকাশেই ট্রাম্পের কড়া বার্তা

ইসলামাবাদে আমেরিকা-ইরান শান্তি বৈঠক: দুই দফার আলোচনা শেষ, মাঝ আকাশেই ট্রাম্পের কড়া বার্তা

বিশ্ব রাজনীতির নজর এখন পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের দিকে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় ৫ ঘণ্টা বিলম্বে শুরু হয়েছে আমেরিকা ও ইরানের উচ্চপর্যায়ের শান্তি বৈঠক। শনিবার রাতের সর্বশেষ খবর অনুযায়ী, দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে ইতিমধ্যে দুই দফার আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে এবং গভীর রাতে তৃতীয় দফার বৈঠক শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


আলোচনার টেবিলে জেডি ভান্স

মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স। কূটনৈতিক জটিলতা ও দুই পক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে বৈঠক শুরু হতে বিলম্ব হলেও, দুই দফার আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে প্রাথমিক মতবিনিময় হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সারা বিশ্ব এখন তাকিয়ে আছে এই বৈঠকের চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে—মধ্যপ্রাচ্যে কি যুদ্ধের দামামা থামবে, নাকি পরিস্থিতি আরও জটিল হবে?

ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক পোস্ট: ‘সব হারিয়েছে ইরান’

শান্তি বৈঠক চলাকালীনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ বেশ কিছু বিতর্কিত ও কড়া মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেন:

  • ইরান বর্তমানে সামরিক ও কৌশলগতভাবে অত্যন্ত দুর্বল অবস্থানে রয়েছে।
  • তাদের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, ক্ষেপণাস্ত্র এমনকি ড্রোন শক্তিও প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে।
  • ট্রাম্পের মতে, অনেক সংবাদমাধ্যম ইরানকে জয়ী হিসেবে দেখালেও বাস্তবে তারা চরম পরাজয়ের সম্মুখীন।
  • সবচেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে তিনি মন্তব্য করেন যে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বও এখন আর তাদের পাশে নেই।

হরমুজ প্রণালীতে মার্কিন রণতরী: উত্তেজনা তুঙ্গে

বৈঠক যখন ইসলামাবাদে চলছে, ঠিক তখনই সমুদ্রপথে শক্তি প্রদর্শন করল আমেরিকা। এর আগে ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছিল যে, মার্কিন রণতরী যদি হরমুজ প্রণালীর দিকে এগোয় তবে সেটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে। কিন্তু সেই হুমকি উপেক্ষা করেই আমেরিকার দু’টি শক্তিশালী রণতরী হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করেছে বলে জানা গেছে। যদিও শুরুতে জাহাজগুলি পথ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেই যাত্রা সম্পন্ন করে।

নিরাপত্তার চাদরে ইসলামাবাদ

বৈঠক ঘিরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ইসলামাবাদকে দুর্ভেদ্য দুর্গে পরিণত করা হয়েছে। দুই দেশের প্রতিনিধিরা এখন তৃতীয় দফার আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তৃতীয় দফার এই আলোচনাতেই মূল রফাসূত্র বা সমঝোতার রূপরেখা স্পষ্ট হতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.