২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যে ফের মাথাচাড়া দিচ্ছে বোমাতঙ্ক। শুক্রবার সন্ধ্যায় হাওড়া-অমৃতসর পঞ্জাব মেলে বোমা থাকার খবর আসায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। শুধু ট্রেনই নয়, শুক্রবার দিনভর কলকাতা ও জেলাস্তরের একাধিক সরকারি দফতরেও ভুয়ো হুমকি মেলের জেরে আতঙ্ক তৈরি হয়।
মাঝপথে থমকাল পঞ্জাব মেল
রেল সূত্রে খবর, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ হাওড়া স্টেশন থেকে পঞ্জাব মেল রওনা হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই বিপত্তি ঘটে। ট্রেনটি যখন হাওড়া-বর্ধমান কর্ড শাখার চন্দনপুর স্টেশনে ঢুকছে, ঠিক তখনই রেলের বিশেষ অ্যাপের মাধ্যমে খবর আসে যে ট্রেনের ভেতরে বোমা রাখা আছে।
তড়িঘড়ি ট্রেনটিকে চন্দনপুর স্টেশনে থামিয়ে দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জিআরপি, আরপিএফ এবং ডগ স্কোয়াড। ট্রেনের প্রতিটি কামরায় চিরুনি তল্লাশি চালানো হলেও শেষ পর্যন্ত কোনো সন্দেহজনক বস্তু বা বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। রেল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক অনুমান, এটি একটি ভুয়ো খবর ছিল। তবে কে বা কারা এই আতঙ্ক ছড়ালো, তা এখনও চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।
নিশানায় পাসপোর্ট অফিস ও ডাকঘর
ট্রেনে বোমাতঙ্কের কয়েক ঘণ্টা আগেই কলকাতার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দফতরে হুমকি মেল আসে।
- আনন্দপুর পাসপোর্ট অফিস: রুবির কাছে আনন্দপুর পাসপোর্ট অফিসে হুমকি মেল আসতেই কাজ বন্ধ করে কর্মীরা নীচে নেমে আসেন। পুলিশ তল্লাশি চালালেও সেখানে কিছু পাওয়া যায়নি।
- সল্টলেক পাসপোর্ট অফিস: এখানেও একই কায়দায় হুমকি মেল পাঠিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়।
- ডাকঘর: শুক্রবার সকালে হাওড়া ময়দানের প্রধান ডাকঘরে বোমাতঙ্ক ছড়ায়। শুধু কলকাতা বা হাওড়া নয়, পূর্ব মেদিনীপুরের কাঁথি এবং পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল প্রধান ডাকঘরেও একই ধরনের হুমকি মেলের জেরে শোরগোল পড়ে যায়।
বাড়ছে উদ্বেগ
ভোটের মুখে যেভাবে ধারাবাহিক হুমকি মেলের মাধ্যমে জনজীবনে আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে, তাতে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে প্রশাসনের। নির্বাচনের ঠিক আগে এ ধরনের ঘটনা কোনো গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ কি না, তা খতিয়ে দেখছে লালবাজারের সাইবার সেল ও রাজ্য গোয়েন্দা দফতর।
রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন সংক্রান্ত আরও খবরের জন্য নজর রাখুন জি ২৪ ঘণ্টার বিশেষ অনুষ্ঠান ‘বাংলার মহারণ’-এ।

