ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (আইএসএল) চলতি মরসুমে টানা ছয়টি ম্যাচ ঘরের মাঠে খেলার পর এবার প্রথম অ্যাওয়ে ম্যাচে নামছে ইস্টবেঙ্গল। শনিবার চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে লাল-হলুদ শিবিরের প্রতিপক্ষ চেন্নাইয়িন এফসি। লিগ তালিকায় ১১ নম্বরে থাকা চেন্নাইয়িনকে হারিয়ে পূর্ণ পয়েন্ট পাওয়াই এখন অস্কার ব্রুজোর দলের প্রধান লক্ষ্য। এই ম্যাচে জয় পেলে পয়েন্টের নিরিখে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী মোহনবাগানকে ছুঁয়ে ফেলবে তারা।
অস্কারের রণকৌশল ও সতর্কতা
ঘরের মাঠে খেলা ৬ ম্যাচে ৩টি জয় ও ২টি ড্র-সহ মোট ১১ পয়েন্ট সংগ্রহ করেছে ইস্টবেঙ্গল। তবে বিদেশের মাটিতে প্রথম পরীক্ষা নিয়ে সতর্ক অস্কার। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “এটি আমাদের মরসুমের প্রথম অ্যাওয়ে ম্যাচ। চেন্নাইয়িন এখনও ছন্দ না পেলেও ওরা প্রাক্তন চ্যাম্পিয়ন। ওদের দলে এমন ফুটবলার আছে যারা একাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। সুপার কাপে ওদের বিরুদ্ধে খেলার অভিজ্ঞতা আমাদের আছে, তাই আমরা কোনোভাবেই প্রতিপক্ষকে হালকা ভাবে নিচ্ছি না।”
আন্তর্জাতিক বিরতিকে কাজে লাগিয়ে দলকে মানসিক ও কৌশলীভাবে নতুন করে সাজিয়েছেন অস্কার। বিরতি পরবর্তী আগামী সাতটি ম্যাচের জন্য দলের ফুটবলাররা সম্পূর্ণ মনোযোগী বলেও জানান তিনি।
প্রতিকূল আবহাওয়া ও চোট বিভ্রাট
চেন্নাইয়ের গরম এবং আর্দ্রতা ইস্টবেঙ্গলের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। কলকাতায় বৃষ্টির কারণে আবহাওয়া কিছুটা মনোরম থাকলেও চেন্নাইয়ের পরিস্থিতি ভিন্ন। এই প্রতিকূলতার মধ্যেই ফুটবলারদের আগ্রাসনী মেজাজে খেলার পরামর্শ দিয়েছেন কোচ।
দলের দুই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য মহম্মদ রশিদ এবং কেভিন সিবিলেকে নিয়ে জল্পনা থাকলেও অস্কার স্পষ্ট কোনো বার্তা দেননি। রশিদের গোড়ালির চোট নিয়ে সতর্কতা অবলম্বন করছে দল। তবে সিবিলে চেন্নাই ম্যাচে ফিরতে পারেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অনুশীলনে দু’জনকেই দলের সাথে দেখা যাওয়ায় লাল-হলুদ সমর্থকদের মধ্যে আশার আলো তৈরি হয়েছে।
লক্ষ্য এখন ট্রফি
গত মরসুমের তুলনায় বর্তমান দলের গুণগত পার্থক্য তুলে ধরে অস্কার বলেন,
“এই বছর ইস্টবেঙ্গল ট্রফি জয়ের লক্ষ্য নিয়ে খেলছে। আমরা পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে থাকতে চাই। গত বছরের পরিস্থিতি আলাদা ছিল; তখন প্রথম সারির ক্লাবগুলোর সঙ্গে লড়াই করার মতো সামর্থ্য আমাদের ছিল না। কিন্তু এ বছর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন।”
চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে এই ম্যাচটি জিতে লিগ টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে মরিয়া লাল-হলুদ ব্রিগেড। পুরো দল এখন প্রথম অ্যাওয়ে জয়ের স্বাদ পেতে মুখিয়ে আছে।

