কন্যাশ্রী কাপে ইস্টবেঙ্গলের গোল উৎসব: ২১-০ ব্যবধানে বিধ্বস্ত দীপ্তি সংঘ

কন্যাশ্রী কাপে ইস্টবেঙ্গলের গোল উৎসব: ২১-০ ব্যবধানে বিধ্বস্ত দীপ্তি সংঘ

কন্যাশ্রী কাপে নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করল ইস্টবেঙ্গল এফসি। প্রতিপক্ষ দীপ্তি সংঘ এফসি-র বিরুদ্ধে ২১-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে জয় ছিনিয়ে নিল তারা। গোটা ম্যাচ জুড়ে লাল-হলুদ জার্সিধারীদের দাপটে মাঠের এক প্রান্তেই সীমাবদ্ধ ছিল খেলা। এটি ইস্টবেঙ্গল মহিলা ফুটবল দলের ইতিহাসে দ্বিতীয় বৃহত্তম জয় হিসেবে নথিবদ্ধ হলো।

ম্যাচের গতিপ্রকৃতি

খেলার শুরু থেকেই অত্যন্ত আগ্রাসী মেজাজে আক্রমণ শানাতে থাকে ইস্টবেঙ্গল। প্রথমার্ধেই তারা ৭-০ ব্যবধানে এগিয়ে গিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয়। তবে বিরতির পর আক্রমণের ঝাঁজ আরও বাড়িয়ে দেয় লাল-হলুদ শিবির। পরের ৪৫ মিনিটে তারা আরও ১৪টি গোল যোগ করে স্কোরবোর্ডে। পরিসংখ্যান বলছে, ম্যাচের প্রতি ৩ মিনিটে গড়ে একটি করে গোল করেছেন ইস্টবেঙ্গলের ফুটবলারেরা।

স্কোরবোর্ড ও গোলদাতারা

দলের হয়ে গোলের খাতা খোলেন নাওরেম প্রিয়াঙ্কা দেবী। ম্যাচের মাত্র ৪ মিনিটেই তাঁর পা থেকে আসে প্রথম গোল। ব্যক্তিগত ও দলীয় গোলের নিরিখে উল্লেখযোগ্য পারফরম্যান্স করেন বেশ কয়েকজন ফুটবলার:

  • অষ্টম ওরাওঁ: দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৬টি গোল করেন তিনি।
  • নাওরেম প্রিয়াঙ্কা দেবী: একাই করেছেন ৪টি গোল।
  • সন্ধ্যা মাইতি ও সিল্কি দেবী: দুজনেই ৪টি করে গোল করেছেন।
  • অন্যান্য গোলদাতা: পূর্ণিমা দাস, শ্রাবনী মুর্মু এবং আন্টাসিয়া ওরাওঁ একটি করে গোল করে দলের বিশাল জয়ে অবদান রাখেন।

একতরফা আধিপত্য

দীপ্তি সংঘের ফুটবলারেরা গোটা ম্যাচে ইস্টবেঙ্গলের ডিফেন্স লাইনকে কোনো পরীক্ষাতেই ফেলতে পারেননি। বরং লাল-হলুদ স্ট্রাইকারদের সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে তাদের রক্ষণভাগকে। প্রথমার্ধের ৭ গোলের রেশ ধরে দ্বিতীয়ার্ধে গোলের মালা গেঁথে প্রতিপক্ষকে খড়কুটোর মতো উড়িয়ে দেয় ইস্টবেঙ্গল।

এই বিশাল জয়ের ফলে লিগ টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করল লাল-হলুদ বাহিনী। অন্যদিকে, এই হারের পর দীপ্তি সংঘের আগামী দিনের লড়াই আরও কঠিন হয়ে পড়ল বলে মনে করছেন ফুটবল বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.