মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা: মার্কিন যুদ্ধবিমান ও রাডার ধ্বংসের দাবি ইরানের, সৌদির ঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতির খবর

মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা: মার্কিন যুদ্ধবিমান ও রাডার ধ্বংসের দাবি ইরানের, সৌদির ঘাঁটিতে ক্ষয়ক্ষতির খবর

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে সংঘাতের পারদ আরও চড়ল। ইরান সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর দাবি করে জানিয়েছে, তারা ড্রোন ও মিসাইল হামলার মাধ্যমে মার্কিন নৌবহর এবং অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান গুঁড়িয়ে দিয়েছে। তেহরানের পক্ষ থেকে শেয়ার করা ছবি ও ভিডিওতে মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন (USS Abraham Lincoln) এবং এফ-১৮ বা এফ-৩৫ এর মতো যুদ্ধবিমান ধ্বংস করার দাবি জানানো হয়েছে।

সৌদির প্রিন্স সুলতান ঘাঁটিতে বড় হামলা

ইরানের দাবি অনুযায়ী, সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধ বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি (E-3 Sentry) ড্রোন ও মিসাইল হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (AP) জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত ১০ জন মার্কিন কর্মী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।

হামলার পরিসংখ্যান:

  • ব্যালিস্টিক মিসাইল: ৬টি।
  • ড্রোন: ২৯টি আক্রমণাত্মক ড্রোন।
  • ক্ষয়ক্ষতি: ইরান প্রেস টিভির প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, ৮৪,০০০ কেজি ওজনের বিশাল বিমানটির মূল কাঠামো সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত, কেবল সামনের ও পেছনের অংশটুকু টিকে আছে।

কেসি-১৩৫ ও অন্যান্য স্থাপনায় আঘাত

ইরান রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) দাবি করেছে, তারা দীর্ঘ ও মাঝারি পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে আমেরিকা ও ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এই অভিযানে মার্কিন সেনার অন্তত দুটি বোয়িং কেসি-১৩৫ (KC-135) স্ট্র্যাটোট্যাংকার বা রিফুয়েলিং বিমান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উল্লেখ্য, এই বিমানগুলো মাঝআকাশে যুদ্ধবিমান ও নজরদারি বিমানে জ্বালানি সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হয়। এছাড়াও একটি এমকিউ-৯ (MQ-9) ড্রোনকে মাটিতে নামিয়ে এফ-১৬ (F-16) বিমানে আঘাত করার দাবিও করেছে তেহরান।

কেন ই-৩ সেন্ট্রি ধ্বংস হওয়া তাৎপর্যপূর্ণ?

আধুনিক যুদ্ধে বোয়িং ই-৩ সেন্ট্রি-কে আকাশের ‘মস্তিষ্ক’ বলা হয়। এটি মূলত একটি এয়ারবোর্ন ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল সিস্টেম (AWACS) বিমান। এর কাজ হলো:

  • আকাশে উড়ন্ত রাডার ও কমান্ড সেন্টার হিসেবে কাজ করা।
  • অনেক দূর থেকে শত্রুর উপস্থিতি শনাক্ত করা।
  • রিয়েল-টাইম নজরদারি ও বায়ুযুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ করা।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই অতি-গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সম্পদ ধ্বংসের দাবি যদি সত্যি হয়, তবে তা বৈশ্বিক সামরিক ভারসাম্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সমর বিশেষজ্ঞরা। তবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ খতিয়ান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.