রাজ্যের সংশোধিত ভোটার তালিকা (SIR) নিয়ে চলা দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাতে বড় পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। রবিবার রাত পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন ভোটারের মধ্যে ৪২ লক্ষের তথ্য নিষ্পত্তি করা হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, এই বিপুল সংখ্যক ভোটারের মধ্যে প্রায় ১৮ লক্ষ নাম পাকাপাকিভাবে বাদ পড়েছে এবং প্রায় ২৪ লক্ষ নাম বৈধ হিসেবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
মনোনয়নের আগেই লক্ষ্যপূরণ
বর্তমানে আরও প্রায় ২০ লক্ষ ভোটারের নাম বিবেচনাধীন রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, আগামী ৬ এপ্রিল— অর্থাৎ প্রথম দফার ভোটের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখের আগেই এই সমস্ত নামের নিষ্পত্তি সম্পন্ন হবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ভিন্রাজ্য থেকে আসা বিচারকসহ মোট ৭০৫ জন বিচারক এই জটিল প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করছেন।
পরিসংখ্যানের খতিয়ান ও বাদের হিসাব
রাজ্যের ভোটার তালিকার খসড়া থেকে চূড়ান্ত পর্যায় পর্যন্ত বাদের সংখ্যা রীতিমতো চমকপ্রদ।
- প্রাথমিক পরিস্থিতি: এসআইআর প্রক্রিয়া শুরুর আগে রাজ্যে মোট ভোটার ছিলেন ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯ জন।
- খসড়া তালিকায় বাদ: ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৯ জন।
- ২৮ ফেব্রুয়ারির চূড়ান্ত তালিকায় বাদ: অতিরিক্ত ৫ লক্ষ ৪৬ হাজার ৫৩ জন।
- মোট বাদের হিসাব: ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সর্বমোট ৬৩ লক্ষ ৬৬ হাজার ৯৫২ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল। এরপর প্রথম অতিরিক্ত তালিকা থেকেও আরও প্রায় ১২ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে।
শুনানি ও যাচাইকরণ প্রক্রিয়া
কমিশন জানিয়েছে, খসড়া তালিকায় নাম থাকা ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩০ জনের মধ্যে ১ কোটি ৫২ লক্ষ ভোটারকে শুনানির জন্য চিহ্নিত করা হয়েছিল।
- নো-ম্যাপিং ভোটার: প্রায় ৩১ লক্ষ ৬৮ হাজার ৪২৬ জন ভোটার ২০০২ সালের শেষ এসআইআর-এর সঙ্গে নিজেদের নথির লিঙ্ক দেখাতে পারেননি।
- তথ্যগত অসঙ্গতি: ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারের নথিতে বৈচিত্র্যময় অসঙ্গতি (Logical Discrepancy) মেলায় তাঁদের শুনানিতে ডাকা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ১ কোটি ৪২ লক্ষ ভোটারের শুনানি গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৮২ লক্ষ ভোটারের নথির সত্যতা নিয়ে কমিশন ইআরও (ERO) ও এইআরও (AERO)-দের সঙ্গে একমত হয়েছে।
বর্তমান ভোটার চিত্র
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রথম দফার চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, রাজ্যে বর্তমানে মোট ভোটার সংখ্যা ৭ কোটি ৪ লক্ষ ৫৯ হাজার ২৮৪। এর মধ্যে ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের নাম ‘বিবেচনাধীন’ রাখা হয়েছিল, যার নিষ্পত্তির কাজ এখন যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে।
কমিশনের এই স্বচ্ছ ও নিঁখুত তালিকা তৈরির প্রচেষ্টা অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে একটি বড় পদক্ষেপ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।

