১০ দিনের মধ্যে গ্রেফতারির কড়া নির্দেশ: ভোটের আগে পুলিশ ও প্রশাসনের জন্য ১৬ দফার ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ কমিশনের

১০ দিনের মধ্যে গ্রেফতারির কড়া নির্দেশ: ভোটের আগে পুলিশ ও প্রশাসনের জন্য ১৬ দফার ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ কমিশনের

লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজিরবিহীন কড়া অবস্থান নিল ভারতের নির্বাচন কমিশন। রাজ্য পুলিশের শীর্ষমহল থেকে শুরু করে নিচু তলার কর্মীদের জন্য জারি করা হয়েছে একগুচ্ছ নির্দেশিকা। কমিশনের সাফ বার্তা, অপরাধ দমনে কোনো রকম আপস করা হবে না এবং নির্দেশ অমান্য করলে সরাসরি শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অপরাধীদের জন্য ১০ দিনের সময়সীমা

কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, রাজ্যের যাঁদের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য পরোয়ানা (NBW) ঝুলে রয়েছে, তাঁদের আগামী ১০ দিনের মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে। কোনো পরোয়ানাই ১০ দিনের বেশি ফেলে রাখা যাবে না। পাশাপাশি, গত নির্বাচনের সময় হওয়া সমস্ত অপরাধমূলক মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে চার্জশিট বা ফাইনাল রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এসডিপিও ও ওসি-দের জন্য বিশেষ দায়িত্ব

শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে পুলিশি স্তরে কাজের বিভাজন করে দিয়েছে কমিশন:

  • এসডিপিও (SDPO): পলাতক এবং ঘোষিত অপরাধীদের তালিকা তৈরি করে বিশেষ অভিযান চালাতে হবে। প্রয়োজনে ‘লুকআউট সার্কুলার’ জারি করতে হবে। প্রতিবেশী জেলা ও মহকুমার পুলিশকর্তাদের সাথে নিয়মিত তথ্য আদানপ্রদান ও বৈঠক করা বাধ্যতামূলক।
  • ওসি (OC/SHO): নিজ নিজ থানা এলাকায় অশান্তিপ্রবণ অঞ্চলগুলি চিহ্নিত করতে হবে। গত নির্বাচনে গোলমাল পাকানো ‘গুন্ডা ও দুষ্কৃতীদের’ তালিকা তৈরি করে তাঁদের গতিবিধির ওপর কড়া নজর রাখতে হবে।

থানাগুলির জন্য ১৬ দফা নির্দেশিকা

নির্বাচন কমিশন থানাগুলির উদ্দেশ্যে মোট ১৬টি পয়েন্টের একটি নির্দেশিকা পাঠিয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

  1. নাকা তল্লাশি: জেলা ও রাজ্যের সংযোগস্থলগুলিতে ২৪ ঘণ্টা নাকা চেকিং চালাতে হবে। সিসিটিভি ক্যামেরা সবসময় সচল রাখা নিশ্চিত করতে হবে।
  2. নিরাপত্তা: প্রার্থী, ভিআইপি এবং পর্যবেক্ষকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।
  3. তল্লাশি: হোটেল, লজ এবং ধর্মশালাগুলিতে নিয়মিত তল্লাশি চালাতে হবে যাতে কোনো বহিরাগত বা সন্দেহভাজন আশ্রয় না পায়।
  4. টহলদারি: মাদক ব্যবসা বা অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলিতে বিশেষ নজরদারি ও নিয়মিত পুলিশি টহল বাড়াতে হবে।

“সবাই কমিশনের অধীনে”: কড়া বার্তা প্রশাসনের প্রতি

কমিশন মনে করিয়ে দিয়েছে যে, নির্বাচনের সময় রাজ্যের সমস্ত সরকারি কর্মচারী আদতে কমিশনের অধীনেই কাজ করেন। ফলে কাজে কোনো গাফিলতি দেখা দিলে কমিশন সরাসরি তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে। এই নির্দেশিকা কেবল ‘কাগজে’ নয়, বাস্তবেও কঠোরভাবে পালন করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সুপার, পুলিশ কমিশনার এবং জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের চিঠি দিয়ে এই নির্দেশিকা কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.