গিরিশ পার্কের সংঘর্ষ: লালবাজারের রিপোর্টে অসন্তুষ্ট নির্বাচন কমিশন, ফের তলব পূর্ণাঙ্গ তথ্য

গিরিশ পার্কের সংঘর্ষ: লালবাজারের রিপোর্টে অসন্তুষ্ট নির্বাচন কমিশন, ফের তলব পূর্ণাঙ্গ তথ্য

গত শনিবার (১৪ মার্চ) গিরিশ পার্কে বিজেপির ব্রিগেড সমাবেশকে কেন্দ্র করে হওয়া অশান্তির ঘটনায় কলকাতা পুলিশের পেশ করা রিপোর্টে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়ির সামনে ঘটে যাওয়া ওই সংঘর্ষের ঘটনায় কেন কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগানো হয়নি, সেই প্রশ্ন তুলে কলকাতার পুলিশ কমিশনারের কাছে পুনরায় রিপোর্ট তলব করা হয়েছে।

কমিশনের আপত্তির মূল কারণ

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পুলিশের প্রাথমিক রিপোর্টে কতগুলি এফআইআর হয়েছে বা কতজন গ্রেপ্তার হয়েছেন, তার উল্লেখ থাকলেও কিছু মৌলিক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। কমিশনের আপত্তির জায়গাগুলি হলো:

  • আগাম সতর্কতার অভাব: অশান্তি হতে পারে এমন গোয়েন্দা তথ্য থাকা সত্ত্বেও কী ধরনের আগাম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল?
  • কেন্দ্রীয় বাহিনীর অনুপস্থিতি: প্রায় এক ঘণ্টা ধরে এলাকায় ব্যাপক গোলমাল চললেও কেন নিকটবর্তী কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ডাকা হলো না?
  • সঠিক সময়ে পদক্ষেপ: পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা কেন নিষ্ক্রিয় ছিল?

পুলিশ ও রাজনৈতিক চাপানউতোর

কলকাতা পুলিশের নবনিযুক্ত কমিশনার অজয়কুমার নন্দ অবশ্য কেন্দ্রীয় বাহিনীকে না ডাকার স্বপক্ষে যুক্তি দিয়েছেন। তাঁর দাবি, এই ধরনের পরিস্থিতি সামলাতে কলকাতা পুলিশ যথেষ্ট দক্ষ। এছাড়া ঘটনার সময় কেন্দ্রীয় বাহিনী ওই তল্লাটের খুব একটা কাছে ছিল না বলেও তিনি জানান।

অন্যদিকে, বঙ্গ বিজেপি এই ঘটনায় সরাসরি দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়েছে। তাদের অভিযোগ:

  1. কলকাতা পুলিশের কাছে গোলমালের আগাম খবর থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা করা হয়নি।
  2. ভোটের সময় পরিকল্পিতভাবে পুলিশ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ‘অকেজো’ করে রাখছে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট

গত শনিবার বিজেপির ব্রিগেড সমাবেশগামী কয়েকটি বাসের ওপর গিরিশ পার্ক এলাকায় হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে।

  • বিজেপির অভিযোগ: এলাকার বাসিন্দা তথা মন্ত্রী শশী পাঁজার অনুগামীরা এই হামলা চালিয়েছে।
  • তৃণমূলের পাল্টা দাবি: বিজেপি কর্মীরাই প্ররোচনা ছাড়া এলাকায় অশান্তি সৃষ্টি করেছে এবং মন্ত্রীর বাড়িতে হামলা চালিয়েছে।

এই সংঘর্ষে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন কর্মী এবং বৌবাজার থানার ওসি বাপ্পাদিত্য নস্কর জখম হন। প্রসঙ্গত, ঘটনার সময় কলকাতার পুলিশ কমিশনার ছিলেন সুপ্রতিম সরকার। এই ঘটনার পরই গত সোমবার কমিশন তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.