পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (এসআইআর) পর অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী শুক্রবারই এই তালিকা জনসমক্ষে আসতে পারে। তবে তার আগে রাজ্যের সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিলেন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল।
নিরাপত্তা নিশ্চিতে জরুরি বৈঠক
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব, পুলিশের ডিজি এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে জরুরি বৈঠকে ডেকেছেন প্রধান বিচারপতি। আদালত সূত্রে খবর, ‘বিবেচনাধীন’ ভোটারদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর সম্ভাব্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে এই বৈঠকে। বর্তমানে রাজ্যের কোথাও কোনো অশান্তি বা নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে কি না, সে বিষয়ে শীর্ষ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করতে পারেন তিনি।
ভোটার তালিকার বর্তমান চিত্র
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন একটি অসম্পূর্ণ সংশোধিত তালিকা প্রকাশ করেছিল। বর্তমান পরিস্থিতির একটি পরিসংখ্যান নিচে দেওয়া হলো:
| ক্যাটাগরি | ভোটারের সংখ্যা |
| যোগ্য ভোটার (প্রকাশিত) | ৬,৪৪,৫২,৬০৯ |
| বিবেচনাধীন ভোটার (বাকি ছিল) | ৬০,০৬,৬৭৫ |
| নিষ্পত্তি হয়েছে (বুধবার পর্যন্ত) | ২৩,৩০,০০০ |
কমিশন সূত্রে খবর, হাই কোর্ট নিযুক্ত ৭০০-র বেশি বিচারবিভাগীয় আধিকারিক অত্যন্ত দ্রুততার সাথে কাজ করছেন। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি হচ্ছে। এই গতি বজায় থাকলে ভোটের আগেই সমস্ত নামের নিষ্পত্তি সম্ভব বলে মনে করছে সিইও দপ্তর।
ভোট ও আইনি প্রক্রিয়া
রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা আসনে আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ফলাফল ঘোষণা হবে ৪ মে। নিয়ম অনুযায়ী, পূর্ণাঙ্গ ভোটার তালিকা ছাড়া নির্বাচন সম্ভব নয়। যদি সময়ের মধ্যে সমস্ত নামের নিষ্পত্তি না হয়, তবে বিষয়টি সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ সাপেক্ষ হতে পারে। তবে বিচারকেরা আশাবাদী যে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ যাবে, তাঁদের জন্য বিচার বিভাগের বিশেষ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার সুযোগ থাকবে।
অবাধ নির্বাচনের লক্ষ্যে প্রশাসনিক রদবদল
নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট করানোর লক্ষ্যে রাজ্যের মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবসহ একাধিক শীর্ষ আমলা ও আইপিএস আধিকারিককে পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে। অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, এখন সেটিই নিশ্চিত করতে চাইছে কলকাতা হাই কোর্ট।

