ইরানের নয়া সর্বোচ্চ নেতার মাথার দাম ১ কোটি ডলার! মোজতবা খামেইনিকে দমনে বড় ঘোষণা ট্রাম্প প্রশাসনের

ইরানের নয়া সর্বোচ্চ নেতার মাথার দাম ১ কোটি ডলার! মোজতবা খামেইনিকে দমনে বড় ঘোষণা ট্রাম্প প্রশাসনের

ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের আবহে তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে বেনজির পদক্ষেপ নিল আমেরিকা। ইরানের নবনিযুক্ত সর্বোচ্চ নেতা (Supreme Leader) আয়াতোল্লা মোজতবা খামেইনির খোঁজ দিতে পারলে ১ কোটি ডলার বা ১০ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করল মার্কিন প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। জি নিউজ (Zee News) সূত্রে এই চাঞ্চল্যকর খবরটি সামনে এসেছে।


কেন এই বিশাল অঙ্কের পুরস্কার?

মোজতবা খামেইনি এবং ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (IRGC) শীর্ষ আধিকারিকদের গতিবিধি ও তাঁদের সরকারের গোপনীয় তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যেই এই বড় অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ‘রিওয়ার্ডস ফর জাস্টিস’ (Rewards for Justice) কর্মসূচির আওতায় এই ঘোষণা করা হয়েছে।

আমেরিকা ও ইজরায়েলের জন্য বর্তমানে মোজতবা খামেইনিই প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। মার্কিন দপ্তরের ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি সার্ভিস একটি পোস্টারের মাধ্যমে মোজতবা খামেইনিকে ‘ওয়ান্টেড’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।


তালিকার অন্য নাম ও পদমর্যাদা

পুরস্কারের তালিকায় কেবল মোজতবা খামেইনি একা নন, বরং তাঁর ঘনিষ্ঠ এবং আইআরজিসি-র সঙ্গে যুক্ত আরও একাধিক শীর্ষ আধিকারিক রয়েছেন:

  • আলি আসগর হেজাজি: নিহত পূর্বতন সর্বোচ্চ নেতার ডেপুটি চিফ অব স্টাফ।
  • আলি লারিজানি: ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা আধিকারিক।
  • ইয়াহইয়া রহিম সাফাভি: সর্বোচ্চ নেতার সিনিয়র সামরিক উপদেষ্টা।
  • এসকান্দার মোমেনি ও ইসমাইল খাতিব: যথাক্রমে ইরানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং গোয়েন্দা মন্ত্রী।

তালিকায় নাম উল্লেখ না করে আরও চারটি গুরুত্বপূর্ণ পদের কথা বলা হয়েছে— সুপ্রিম ডিফেন্স কাউন্সিলের সেক্রেটারি, সামরিক দপ্তরের প্রধান, আইআরজিসি-র কমান্ডার-ইন-চিফ এবং সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা।


মার্কিন অভিযোগ ও বিশ্ব নিরাপত্তা

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের দাবি, এই ব্যক্তিরা আইআরজিসি-র বিভিন্ন শাখা পরিচালনা করেন এবং বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন নাশকতামূলক অভিযানের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের জন্য সরাসরি দায়ী। তাঁদের নেতৃত্বেই ইরান বিশ্বশান্তি বিঘ্নিত করার চেষ্টা করছে বলে মনে করে আমেরিকা। মোজতবা খামেইনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আমেরিকার সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের তিক্ততা এক চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.