পাক-বাংলা দ্বৈরথে নজিরবিহীন রান আউট ঘিরে বিতর্ক, হাসপাতালে তালাত: জয়ী বাংলাদেশ

পাক-বাংলা দ্বৈরথে নজিরবিহীন রান আউট ঘিরে বিতর্ক, হাসপাতালে তালাত: জয়ী বাংলাদেশ

বাংলাদেশ বনাম পাকিস্তানের দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে ক্রিকেটীয় শিষ্টাচার ও ভাগ্য নিয়ে তৈরি হলো তীব্র বিতর্ক। একদিকে পাকিস্তানি অধিনায়ক সালমান আগার অদ্ভুত রান আউট ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মাঠ, অন্যদিকে বাউন্ডারি বাঁচাতে গিয়ে গুরুতর চোট পেয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হলো অলরাউন্ডার হুসেন তালাতকে। ডার্কওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে লক্ষ্যমাত্রা পুনর্নির্ধারিত হওয়ার পর এই ম্যাচে শেষ হাসি হেসেছে বাংলাদেশ।


সালমান আগার ‘বিতর্কিত’ বিদায়

পাক ইনিংসের ৩৯তম ওভারে দেখা যায় এক অভাবনীয় দৃশ্য। মেহেদি হাসান মিরাজের বল রক্ষণ করেন মোহম্মদ রিজওয়ান। নন-স্ট্রাইকার এন্ডে থাকা সালমান আগা কিছুটা এগিয়ে এসেছিলেন। বলটি পা দিয়ে আটকাতে গিয়ে সালমানের সঙ্গে সামান্য সংঘর্ষ হয় মিরাজের। সালমান সম্ভবত ভেবেছিলেন বলটি ‘ডেড’ হয়ে গিয়েছে, এবং তিনি হাত দিয়ে বলটি কুড়িয়ে দিতে উদ্যত হন।

ঠিক সেই মুহূর্তে চিতার ক্ষিপ্রতায় বল তুলে নিয়ে উইকেটে আঘাত করেন মিরাজ। আম্পায়ারের কাছে জোরালো আবেদন জানালে মাঠের আম্পায়ার তনবীর আহমেদ সিদ্ধান্ত পাঠান তৃতীয় আম্পায়ার কুমার ধর্মসেনার কাছে। রিপ্লেতে দেখা যায় উইকেট ভাঙার সময় সালমান ক্রিজের বাইরে ছিলেন। ব্যক্তিগত ৬৪ রানে সালমানকে আউট ঘোষণা করা হলে তিনি মেজাজ হারান। রাগের চোটে হেলমেট ও গ্লাভস মাটিতে আছড়ে ফেলে মাঠ ছাড়েন পাক অধিনায়ক। এই ঘটনা নিয়ে মাঠে লিটন দাসের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন রিজওয়ানও।


বাউন্ডারি বাঁচাতে গিয়ে হাসপাতালে তালাত

বাংলাদেশের ইনিংসের ষষ্ঠ ওভারে ঘটে এক দুর্ঘটনা। মহম্মদ ওয়াসিমের বলে লিটন দাসের জোরালো শট আটকাতে গিয়ে বিজ্ঞাপনী বোর্ডে আছড়ে পড়েন ফিল্ডার হুসেন তালাত। কাঁধে গুরুতর চোট পাওয়ায় তাঁকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যেতে হয়। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (PCB) তরফে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


ম্যাচের গতিপ্রকৃতি: পাকিস্তানের ব্যাটিং ও বাংলাদেশের জয়

টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে ২৭৪ রানে অল-আউট হয় পাকিস্তান।

  • পাক ব্যাটিং: ওপেনার মাজ সাদাকাত মাত্র ৪৬ বলে ৭৫ রান করে ঝড় তোলেন। রিজওয়ান (৪৪) ও সালমান আগা (৬৪) মিলে ১০৯ রানের পার্টনারশিপ গড়ে বড় স্কোরের ইঙ্গিত দিলেও শেষ দিকে নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারায় পাকিস্তান।
  • বাংলাদেশের ইনিংস ও বৃষ্টি: লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ১৫ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায়। এরপর ১৩৩ মিনিট বৃষ্টির জন্য খেলা বন্ধ থাকে।

নতুন লক্ষ্যমাত্রা ও ফলাফল: বৃষ্টির পর ডাকওয়ার্থ-লুইস নিয়মে বাংলাদেশের সামনে ৩২ ওভারে ২৪৩ রানের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়। তবে সেই রান তাড়া করতে নেমে নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে মাত্র ১১৪ রানেই গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। ফলে একটি ঘটনাবহুল ম্যাচে জয় ছিনিয়ে নিল পাকিস্তান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.