অল ইংল্যান্ড ব্যাডমিন্টন চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ইতিহাস গড়া হলো না লক্ষ্য সেনের। রবিবার ফাইনালে চাইনিজ তাইপেইয়ের লিন চুন ইয়ের কাছে ১৫-২১, ২০-২২ গেমে পরাজিত হলেন ভারতীয় এই শাটলার। এর আগে ২০২২ সালেও ফাইনাল থেকে খালি হাতে ফিরতে হয়েছিল তাঁকে। এবারও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল।
লিনের দাপট ও লক্ষ্যের লড়াই
ম্যাচের শুরু থেকেই লিন চুন ইয়ের বাঁহাতি আক্রমণাত্মক শৈলীর সামনে চাপে ছিলেন লক্ষ্য। এর আগে চারবার মুখোমুখি হয়ে চারবারই লিনের কাছে হারতে হয়েছিল তাঁকে। এদিনও সেই রেকর্ড বদলাতে পারলেন না ভারতীয় তারকা।
- প্রথম গেম: লিনের বাঁহাতি স্ম্যাশ ও কোর্টের কোণ ব্যবহার করার কৌশলে প্রথম গেমে বিশেষ সুবিধা করতে পারেননি লক্ষ্য। ১৫-২১ ব্যবধানে সহজেই প্রথম গেম পকেটে পুরে নেন লিন।
- দ্বিতীয় গেম: দ্বিতীয় গেমে লক্ষ্য দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিলেন। এক সময় ১৩-৮ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে গেম জয়ের আশা জাগিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু দীর্ঘ র্যালির ক্লান্তি ও লিনের অদম্য জেদের কাছে শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করতে হয় তাঁকে। ১৬-১৬ সমতায় ফেরার পর লড়াই হয় সেয়ানে সেয়ানে।
- ফলাফল: স্নায়ুর চাপ ধরে রাখতে না পেরে শেষ মুহূর্তে দুটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হারান লক্ষ্য। ২০-২২ ব্যবধানে দ্বিতীয় গেম ও ৫৭ মিনিটের লড়াই শেষে ম্যাচ জিতে নেন লিন।
অধরাই রইল ইতিহাস
১৯৮০ সালে প্রকাশ পাড়ুকোন এবং ২০০১ সালে পুল্লেলা গোপীচন্দ অল ইংল্যান্ড চ্যাম্পিয়নশিপে ভারতের হয়ে সোনা জিতেছিলেন। লক্ষ্যের সামনে সুযোগ ছিল তৃতীয় ভারতীয় পুরুষ খেলোয়াড় হিসেবে এই কৃতিত্ব অর্জন করার। কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালে কঠিন প্রতিপক্ষদের হারিয়ে ছন্দে থাকলেও, ফাইনালের গেরো কাটাতে পারলেন না তিনি।
ফাইনালে পরাজয় সত্ত্বেও গোটা টুর্নামেন্টে লক্ষ্যের পারফরম্যান্স নজর কেড়েছে ক্রীড়াপ্রেমীদের। অলিম্পিকের বছরে তাঁর এই লড়াই আগামী দিনে ভারতীয় ব্যাডমিন্টনের জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

