সেমিফাইনালে জেতানোর পরেই বর্ণবিদ্বেষের শিকার সঞ্জু স্যামসন: দোষীর শাস্তির দাবিতে সরব কেরালা কংগ্রেস

সেমিফাইনালে জেতানোর পরেই বর্ণবিদ্বেষের শিকার সঞ্জু স্যামসন: দোষীর শাস্তির দাবিতে সরব কেরালা কংগ্রেস

রবিবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে অনবদ্য ব্যাটিং করে ভারতকে সেমিফাইনালে তুলেছেন সঞ্জু স্যামসন। কিন্তু সেই সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতেই বর্ণবিদ্বেষী আক্রমণের শিকার হলেন এই ভারতীয় ব্যাটার। সমাজমাধ্যমে তাঁকে লক্ষ্য করে করা একটি কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে এবার সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকারের হস্তক্ষেপ চাইল কেরালা কংগ্রেস।

বিতর্কের সূত্রপাত

ঘটনাটি শুরু হয় সমাজমাধ্যমের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে। ওই পোস্টে সঞ্জু স্যামসন এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের ক্রিকেটারদের গায়ের রঙের প্রতি ইঙ্গিত করে লেখা হয়, “একমাত্র কালো শক্তিই কালো শক্তিকে হারাতে পারে। দারুণ খেলেছো সঞ্জু স্যামসন।” এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একে চূড়ান্ত বর্ণবিদ্বেষী ও অপমানজনক বলে আখ্যা দিয়েছেন নেটিজেনরা।

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি

কেরালা কংগ্রেস এই পোস্টটির তীব্র নিন্দা জানিয়ে সমাজমাধ্যমে সরব হয়েছে। তারা ভারতের রেল এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবকে ট্যাগ করে লিখেছে:

“ভারতের মতো দেশে এই ধরনের নোংরা বর্ণবিদ্বেষের কোনো জায়গা নেই। আমরা অশ্বিনী বৈষ্ণবকে অনুরোধ করছি, যে ব্যক্তির অ্যাকাউন্ট থেকে কেরলের গর্ব সঞ্জুর উদ্দেশে এই জঘন্য পোস্ট করা হয়েছে, তাকে অবিলম্বে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক।”

ফিরে দেখা সেই ঐতিহাসিক ইনিংস

বর্ণবিদ্বেষী আক্রমণের কালো ছায়া সরিয়ে রাখলে, রবিবারের রাতটি ছিল শুধুই সঞ্জুর। দেশকে সেমিফাইনালে তুলে ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হওয়ার পর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। নিজের দীর্ঘ পথচলা নিয়ে সঞ্জু বলেন:

  • অভিজ্ঞতা: “১০-১২ বছর ধরে আইপিএল খেলছি, দেশের হয়েও প্রায় ১০ বছর হতে চলল। বিরাট কোহলি, মহেন্দ্র সিংহ ধোনিদের কাছ থেকে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের যে কৌশল শিখেছি, তা আজ কাজে লেগেছে।”
  • মানসিক লড়াই: “কেরিয়ারের উত্থান-পতনে একটা সময় নিজের ওপর থেকে বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছিলাম। ভাবতাম, আমি কি আদেও পারব? এমন একটি ইনিংসের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছি।”
  • ম্যাচ পরিস্থিতি: লক্ষ্যমাত্রা হাতের নাগালে থাকায় প্রতি বলের মান বিচার করে খেলেছেন বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, এটি তাঁর জীবনের অন্যতম সেরা দিন।

রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিক্রিয়া

সঞ্জুর মতো একজন প্রতিভাবান ক্রিকেটারের সঙ্গে এহেন আচরণে হতাশ ক্রীড়া বিশেষজ্ঞরাও। কেরালা কংগ্রেসের দাবি অনুযায়ী তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক ওই অ্যাকাউন্টধারীর বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেয় কি না, এখন সেটাই দেখার। বর্ণবিদ্বেষের এই ঘটনা ফের একবার সমাজমাধ্যমে সুস্থ সংস্কৃতির প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.