আন্তর্জাতিক অতিথিদের সামনে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অভিযোগে কংগ্রেসকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নয়াদিল্লির ভারত মন্ডপমে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া এআই ইম্প্যাক্ট সামিট’-এ যুব কংগ্রেস কর্মীদের শার্ট খুলে বিক্ষোভ প্রদর্শনকে ‘নোংরা ও নগ্ন রাজনীতি’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
প্রেক্ষাপট: এআই সামিটে নজিরবিহীন বিক্ষোভ
সম্প্রতি দিল্লির ভারত মন্ডপমে আয়োজিত হয়েছিল বিশ্বের বৃহত্তম এআই সম্মেলন। যেখানে ৮০টিরও বেশি দেশের প্রতিনিধি এবং প্রায় ২০টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান চলাকালীন যুব কংগ্রেসের একদল কর্মী প্রদর্শনী হলের ভেতরে ঢুকে শার্ট খুলে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তাঁদের হাতে থাকা টি-শার্ট ও প্ল্যাকার্ডে প্রধানমন্ত্রী মোদী ও মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি ছিল। ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তিতে প্রধানমন্ত্রী দেশের স্বার্থে আপস করছেন— এই অভিযোগে তাঁরা স্লোগান দিতে থাকেন।
মিরাটের জনসভা থেকে মোদীর পাল্টাচাল
মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশের মিরাটে দিল্লি-মিরাট ‘নমো ভারত’ র্যাপিড রেল সংযোগ এবং স্থানীয় মেট্রো পরিষেবার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর এক বিশাল জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি দিল্লির ওই ঘটনার কড়া সমালোচনা করেন। উপস্থিত জনতার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন:
“গোটা দেশ এই এআই সম্মেলন নিয়ে গর্বিত। কিন্তু কংগ্রেসের মতো কিছু রাজনৈতিক দল ভারতের সাফল্য হজম করতে পারছে না। আন্তর্জাতিক মঞ্চকে তারা নোংরা রাজনীতির ময়দানে পরিণত করেছে।”
কংগ্রেস কর্মীদের নগ্ন হয়ে বিক্ষোভ দেখানো প্রসঙ্গে মোদীর তীক্ষ্ণ মন্তব্য: “আমি কংগ্রেসের লোকেদের জিজ্ঞাসা করি, দেশ জানে যে আপনারা ইতিমধ্যেই নগ্ন, তাহলে আপনাদের পোশাক খোলার প্রয়োজন কেন মনে হল?”
উন্নয়নের খতিয়ান ও বিরোধীদের সমালোচনা
প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন যে, যখন ভারত প্রযুক্তির শিখরে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে, তখন বিরোধীরা বিদেশের প্রতিনিধিদের সামনে দেশকে লজ্জায় ফেলার চেষ্টা করছে। তিনি উপস্থিত জনতার কাছে জানতে চান, ভারতের এই বৈশ্বিক সাফল্যে তাঁরা গর্বিত কি না। যার উত্তরে জনসভা থেকে আকাশচুম্বী সমর্থন ভেসে আসে।
উল্লেখ্য, কংগ্রেসের এই বিক্ষোভ ছিল মূলত ভারত ও আমেরিকার মধ্যবর্তী বাণিজ্যিক কাঠামোর বিরোধিতা করে। তবে প্রধানমন্ত্রী এই আন্দোলনকে স্রেফ রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং ‘নগ্ন প্রদর্শন’ হিসেবেই দাগিয়ে দিলেন।

