বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। রবিবার বিকেলে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের এই শপথ অনুষ্ঠান আগামী মঙ্গলবার ঢাকার সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতি
ওম বিড়লাকে পাঠানোর এই সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। সম্প্রতি ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ওম বিড়লার বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে বিরোধীদের একাংশ অনাস্থা প্রস্তাব এনেছে। এমন এক আবহে তাঁকে প্রতিবেশী দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি অনুষ্ঠানে সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানো আদতে বিরোধীদের প্রতি মোদী সরকারের একটি বিশেষ বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে, এই সফর ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্ব এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি দুই দেশের অবিচল দায়বদ্ধতারই প্রতিফলন।
মোদীর সফর ও কূটনৈতিক সমীকরণ
তারেক রহমানের শপথে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সশরীরে উপস্থিত থাকবেন কি না, তা নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে দুই দেশেই ব্যাপক কৌতূহল ছিল। ঢাকার সরকারি সূত্র অনুযায়ী, ভারতসহ ১৩টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তবে নয়াদিল্লি সূত্রের খবর, মঙ্গলবার মুম্বইয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একটি পূর্বনির্ধারিত বৈঠক রয়েছে। এই কূটনৈতিক ব্যস্ততার কারণেই মোদীর পরিবর্তে ওম বিড়লাকে ঢাকা পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবারের কার্যসূচি: শপথগ্রহণের খুঁটিনাটি
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল রবিবারের এক সংবাদ সম্মেলনে মঙ্গলবারের বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন:
- সকাল ১০টা: নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ। শপথবাক্য পাঠ করাতে পারেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
- দুপুর ১২টা: বিএনপি-র সংসদীয় দলের নেতা নির্বাচন।
- বিকেল ৪টে: জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজ়ায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান। রাষ্ট্রপতি এই শপথবাক্য পাঠ করাতে পারেন।
নয়াদিল্লির এই পদক্ষেপের মাধ্যমে স্পষ্ট যে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নতুন সরকারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে ভারত সংসদীয় গণতন্ত্রের অন্যতম প্রধান মুখকেই বেছে নিয়েছে।

