পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (Special Intensive Revision বা SIR) প্রক্রিয়ার শুনানির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত প্রায় ৬ লক্ষ ২৫ হাজার ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে নথিপত্র যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে এই সংখ্যাটি আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
শুনানিতে অনুপস্থিতি ও নথিপত্র যাচাই
কমিশন সূত্রে খবর, নির্ধারিত শুনানিতে বিপুল সংখ্যক ভোটার অনুপস্থিত ছিলেন। মূলত এই অনুপস্থিত ভোটারদের নামই প্রাথমিকভাবে বাদ দেওয়ার তালিকায় রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, এর আগে খসড়া এসআইআর তালিকা থেকে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল।
শনিবার ছিল রাজ্যে এই শুনানির নির্ধারিত শেষ দিন, তবে সিইও (CEO) দফতর সূত্রে জানা গেছে যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাজ নির্দিষ্ট সময়ের আগেই শেষ হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতির সারসংক্ষেপ হলো:
- তথ্য যাচাই সম্পন্ন: এখনও পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ২৩ লক্ষ ভোটারের তথ্য যাচাই বা ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ হয়েছে।
- বাকি তথ্য আপলোড: শুনানিতে উপস্থিত হওয়া প্রায় ১০ থেকে ১৩ লক্ষ ভোটারের তথ্য এখনও পোর্টালে আপলোড হওয়া বাকি রয়েছে।
- সময়সীমা: আগামী ২১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই তথ্য যাচাইয়ের কাজ চলবে।
কেন বাদ পড়ছে নাম?
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, যারা শুনানিতে উপস্থিত হয়ে তথ্য জমা দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অনেকের নথিপত্র নিয়ে আধিকারিকরা সন্দিহান। সঠিক নথির অভাবে সেই নামগুলোও বাদ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। মূলত দুই ধরনের ভোটারদের এই শুনানিতে তলব করা হয়েছিল:
- নো-ম্যাপিং তালিকা: ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সাথে যাদের তথ্যের কোনো মিল বা যোগসূত্র পাওয়া যায়নি, তাঁদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে প্রমাণপত্র দেখাতে বলা হয়েছিল।
- তথ্যগত অসঙ্গতি: ২০০২ সালের তালিকার সাথে যোগ থাকলেও নাম বা অন্যান্য তথ্যে ত্রুটি থাকায় অনেককে শুনানিতে ডাকা হয়।
ইআরও (ERO), এইআরও (AERO) এবং বুথ স্তরের আধিকারিকরা (BLO) উপস্থিত থেকে এই যাচাই পর্ব পরিচালনা করেছেন। ২১ ফেব্রুয়ারির পর চূড়ান্ত পরিসংখ্যান পাওয়া গেলে বোঝা যাবে রাজ্যের সংশোধিত ভোটার তালিকায় ঠিক কতজন জায়গা পেলেন।

