রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ার শুনানির সময়সীমা বৃদ্ধি নিয়ে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী গত শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারি শুনানির শেষ দিন থাকলেও রাজ্যের বেশ কিছু অংশে এখনও বিপুল সংখ্যক শুনানি বাকি রয়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাড়তি সময়ের আবেদন জানিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের (ECI) উত্তরের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দপ্তর।
আবেদনের নেপথ্যে বাকি থাকা ১৫ লক্ষ শুনানি
সিইও দপ্তর সূত্রে খবর, রাজ্যে এখনও প্রায় ১০ থেকে ১৫ লক্ষ ভোটারের শুনানি সম্পন্ন হওয়া বাকি। বিশেষ করে কার্শিয়াং, মালদহ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং উত্তর কলকাতার জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরা (DEO) অতিরিক্ত ৫ থেকে ৭ দিন সময় চেয়ে আবেদন করেছেন। সেই দাবির ভিত্তিতেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজকুমার আগরওয়াল দিল্লির নির্বাচন সদনে চিঠি পাঠিয়েছেন। তবে রবিবার রাত পর্যন্ত কমিশনের তরফ থেকে সময়সীমা বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সবুজ সংকেত মেলেনি।
পূর্বনির্ধারিত সূচি ও বর্তমান পরিস্থিতি
কমিশনের আগের সূচি অনুযায়ী:
- শুনানি শুরু: ২৭ ডিসেম্বর।
- শুনানির শেষ দিন: ৭ ফেব্রুয়ারি।
- চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ: ১৪ ফেব্রুয়ারি।
সূত্রের খবর, সরকারিভাবে সময় বাড়ানোর ঘোষণা না হলেও সংশ্লিষ্ট জেলাগুলিতে মৌখিকভাবে শুনানির কাজ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে। তবে মালদহ ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, রবিবার শুনানির কাজে বিশেষ অগ্রগতি হয়নি।
শুনানির বিশাল কর্মযজ্ঞ
এবারের সংশোধনী প্রক্রিয়ায় রাজ্যে প্রায় দেড় কোটি নোটিস জারি করেছিল কমিশন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলি হলো:
- আনম্যাপড ভোটার: প্রায় ৩২ লক্ষ।
- তথ্যগত অসঙ্গতি (Logical Discrepancy): প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হয়।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, রাজ্যের অন্তত ১০-১৫টি বিধানসভা এলাকায় এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করা সম্ভব হয়নি। ১০ ফেব্রুয়ারি বা মঙ্গলবারের মধ্যে তথ্য আপলোড এবং ভোটার তালিকা যাচাইয়ের কাজ শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু শুনানি পিছিয়ে যাওয়ায় ওই কাজও সময়মতো হওয়া অসম্ভব বলে মনে করছে সিইও দপ্তর।
দিন পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুনানির দিন বাড়লে অনিবার্যভাবেই চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন (১৪ ফেব্রুয়ারি) পিছিয়ে যাবে। কমিশনের অন্দরের খবর, বর্তমান পরিস্থিতিতে পুরো প্রক্রিয়ার জন্য একটি নতুন বা সংশোধিত সূচি তৈরি করার প্রয়োজন হতে পারে। এখন দিল্লির নির্বাচন সদন অতিরিক্ত সময় মঞ্জুর করে কি না, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের প্রশাসনিক মহল।

