ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই বড় অঘটন ঘটতে পারত, যদি না ক্রিজের একপ্রান্ত আগলে রাখতেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। ওয়াংখেড়ের মন্থর পিচে যখন একের পর এক ভারতীয় তারকা সাজঘরে ফিরছেন, তখন ‘মিস্টার ৩৬০ ডিগ্রি’র ৪৯ বলে অপরাজিত ৮৪ রানের ইনিংসই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দিল। ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৬১ রান তুলেছিল ভারত, জবাবে ১৩২ রানেই থমকে যায় আমেরিকার ইনিংস।
ব্যাটিং বিপর্যয়ে ওয়াংখেড়ে স্তব্ধ
ম্যাচ শুরুর আগে যেখানে ভারতীয় ব্যাটারদের থেকে রানবন্যার আশা করা হচ্ছিল, বাস্তব চিত্রটা ছিল তার ঠিক উল্টো। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই শূন্য রানে আউট হন অভিষেক শর্মা। ঈশান কিষাণ (২০) এবং তিলক বর্মা (২৫) কিছুক্ষণ লড়াই করলেও বড় শট মারার তাড়নায় শ্যাডলে ফান শকউইকের শিকার হন। ৪৫ রানে ১ উইকেট থেকে ভারতের স্কোর দ্রুত ৪৫ রানে ৪ উইকেটে পরিণত হয়। রান পাননি রিঙ্কু সিং (৬) ও হার্দিক পাণ্ড্য (৫)। ভারতের ব্যাটিংয়ের এই হতশ্রী দশায় ড্রেসিংরুমে প্রধান কোচ গৌতম গম্ভীরের মুখ ছিল যথেষ্ট গম্ভীর।
সূর্যের প্রতাপ ও নেত্রভলকরের দুঃস্বপ্ন
৭৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা ভারতকে টেনে তোলেন ঘরের ছেলে সূর্যকুমার যাদব। মন্থর পিচে শুরুতে দৌড়ে রান নেওয়ার কৌশল নেন তিনি। একবার জীবনদান পাওয়ার পর রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন সূর্য। শেষ ৫ ওভারে ভারত তোলে ৬৯ রান। উল্টোদিকে, গত বিশ্বকাপের নায়ক সৌরভ নেত্রভলকর এদিন গড়ে ফেললেন এক অনভিপ্রেত রেকর্ড। ৪ ওভারে কোনো উইকেট না পেয়েই খরচ করলেন ৬৫ রান, যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে অন্যতম সবচেয়ে ‘ব্যয়বহুল’ স্পেল। আমেরিকার হয়ে সফলতম বোলার শকউইক নিলেন ৪টি উইকেট।
সিরাজ-অর্শদীপদের নিয়ন্ত্রিত বোলিং
১৬২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতীয় বোলারদের তোপের মুখে পড়ে আমেরিকার টপ অর্ডার। শেষ মুহূর্তে হর্ষিত রানার পরিবর্তে দলে আসা মহম্মদ সিরাজ শুরুতেই ধাক্কা দেন আমেরিকাকে। অর্শদীপ সিংহ এবং অক্ষর পটেলের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ১৩ রানেই ৩ উইকেট হারায় তারা।
মাঝপথে মিলিন্দ কুমার (৩৪) এবং সঞ্জয় কৃষ্ণমূর্তি (৩৭) ৫৮ রানের জুটি গড়ে ভারতকে কিছুটা চাপে ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বরুণ চক্রবর্তীর বুদ্ধিদীপ্ত বোলিং এবং ঈশানের তৎপরতায় মিলিন্দ আউট হতেই আমেরিকার জয়ের আশা শেষ হয়ে যায়। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৩২ রানেই থামে আমেরিকার লড়াই। ভারতের হয়ে সিরাজ ৩টি এবং অক্ষর ২টি উইকেট নেন।
গম্ভীরের কপালে চিন্তার ভাঁজ
ম্যাচ জিতলেও দলের সামগ্রিক ব্যাটিং পারফরম্যান্স নিয়ে কোচ গৌতম গম্ভীর যে খুশি নন, তা ম্যাচের মাঝেই তাঁর শরীরী ভাষায় স্পষ্ট ছিল। জলপানের বিরতিতে মাঠে নেমে সূর্যদের বিশেষ পরামর্শ দিতেও দেখা যায় তাঁকে। আগামী ম্যাচগুলিতে ব্যাটিং গভীরতা এবং শট নির্বাচনের ওপর যে কড়া নজর থাকবে, তা বলাই বাহুল্য।

