অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার জীবনের অন্য এক ‘ফাইনালের’ মুখোমুখি ভারতীয় দলের উদীয়মান তারকা অভিজ্ঞান কুণ্ডু। বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতের হয়ে তৃতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক এই ক্রিকেটার হারারে থেকে ফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানালেন, দেশে ফেরার ঠিক দু’দিন পরেই শুরু হচ্ছে তাঁর দ্বাদশ শ্রেণির বোর্ড পরীক্ষা।
ড্রেসিংরুমের শৃঙ্খলা ও সেলিব্রেশন
বিশ্বজয়ের রাতে যখন গোটা ভারত উৎসবে মেতেছিল, তখন কানিতকরের অনুশাসনে রাত ১১টার মধ্যেই বিছানায় যেতে হয়েছিল চ্যাম্পিয়নদের। অভিজ্ঞানের কথায়, “ড্রেসিংরুমে আর হোটেলে কিছুক্ষণ নাচ-গান হয়েছে ঠিকই, কিন্তু স্যরের (কোচ হৃষিকেশ কানিতকর) কড়া নির্দেশ ছিল সবাই যেন দ্রুত ঘুমিয়ে পড়ি।”
কথায় কথায় উঠে এল রুমমেট বৈভব সূর্যবংশীর প্রসঙ্গও। শান্ত স্বভাবের বৈভব ভোজপুরী গানের তালে যেভাবে নেচেছেন, তাতে রীতিমতো বিস্মিত অভিজ্ঞান। তিনি জানান, বৈভবের সেই নাচের ভিডিও এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল।
মাঠ থেকে পরীক্ষার হল: কঠিন লড়াই
রবিবার দেশে ফিরলেও বিশ্রামের অবকাশ নেই অভিজ্ঞানের। কারণ, মঙ্গলবার থেকেই শুরু হচ্ছে তাঁর পরীক্ষা। ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচির মাঝেও কীভাবে পড়াশোনা সামলাচ্ছেন? অভিজ্ঞান জানালেন, “বিশ্বকাপের মাঝেও আমি বই সঙ্গে রেখেছিলাম। ম্যাচ আর অনুশীলনের ফাঁকে যতটা পেরেছি পড়ে নিয়েছি। এখন সোমবারের দিনটিই হাতে আছে সব ঝালিয়ে নেওয়ার জন্য।”
মজার ছলে এই উইকেটরক্ষক-ব্যাটার স্বীকার করে নিলেন যে, সারা বছর খেলার মধ্যে থাকায় বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলা তাঁর কাছে সহজাত হয়ে গেলেও, পড়াশোনার ‘ফাইনাল’ দেওয়াটা এখন তাঁর কাছে বেশি কঠিন মনে হচ্ছে।
স্বপ্ন যখন সাদা পোশাক
বোর্ড পরীক্ষা মার্চের মাঝামাঝি শেষ হওয়ার পর আবারও পুরোদমে ক্রিকেটে ফিরবেন তিনি। তবে অভিজ্ঞানের লক্ষ্য সুদূরপ্রসারী। বাবা এবং কোচের দেখানো পথেই নিজেকে ভবিষ্যতে ভারতীয় টেস্ট দলে দেখতে চান তিনি।
আগামী লক্ষ্য প্রসঙ্গে অভিজ্ঞান বলেন:
“আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে ভারতের টেস্ট ক্যাপ পরতে চাই। আমার মূল লক্ষ্য ধারাবাহিকভাবে রান করে যাওয়া। স্যাররা শিখিয়েছেন, ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে।”
বিশ্বকাপের মঞ্চে স্নায়ুর চাপ সামলানো এই তরুণ এখন জীবনের পরবর্তী পরীক্ষার জন্য প্রস্তুত। আপাতত ভারতীয় ক্রিকেট প্রেমীদের প্রার্থনা, বাইশ গজের মতো খাতা-কলমেও যেন সেরার সেরা সাফল্য পান এই তরুণ তুর্কি।

