২০২৬ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ১০০ রানে গুঁড়িয়ে দিয়ে ষষ্ঠবার বিশ্বসেরার শিরোপা দখল করল ভারত। হারারে স্পোর্টস ক্লাবে শুক্রবার আয়ুষ মাত্রের নেতৃত্বাধীন ভারতের দামাল ছেলেরা শুধু ম্যাচই জিতল না, সৃষ্টি করল নয়া ইতিহাসের। ২০০০ সালে মহম্মদ কাইফের হাত ধরে যে যাত্রার শুরু হয়েছিল, বিরাটের ২০০৮, উনমুক্তের ২০১২, পৃথ্বী শ-র ২০১৮ এবং যশ ধুলের ২০২২-এর পর ২০২৬-এ সেই মুকুটে যুক্ত হলো ষষ্ঠ পালক।
বৈভবের ‘অভিষেক’ ঘরানা ও রানের পাহাড়
টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে। ওপেন করতে নেমে জিম্বাবোয়ের মাঠে কার্যত তাণ্ডব চালান বৈভব সূর্যবংশী। মাত্র ৮০ বলে ১৭৫ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে তিনি নেটদুনিয়ায় ‘জুনিয়র অভিষেক শর্মা’ তকমা পেয়েছেন। ১২৬ মিনিটের এই ইনিংসে ছিল ১৫টি চার ও ১৫টি ছক্কা। বৈভবের এই অতিমানবীয় ইনিংসের সৌজন্যে ভারত নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেটে ৪১১ রানের পাহাড় গড়ে।
- অন্যান্য অবদান: অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে করেন ৫৩ রান। উইকেটকিপার-ব্যাটার অভিজ্ঞান কুণ্ডু ৪০ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন। এছাড়া বেদান্ত ত্রিবেদী, বিহান মালহোত্রা ও কণিষ্ক চৌহান ৩০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে দলকে বিশাল স্কোরে পৌঁছে দেন।
লড়াকু ইংল্যান্ড ও ভারতের বোলিং দাপট
৪১২ রানের লক্ষ্যমাত্রা তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ডের শুরুটা মন্দ ছিল না। ওপেনার বেন ডকিন্স (৬৬) এবং বেন মায়েজ (৪৫) লড়াই করার চেষ্টা করেন। মিডল অর্ডারে সালেব ফালকোনার মাত্র ৬৭ বলে ১১৫ রানের একটি অনবদ্য শতরান (৯টি চার ও ৭টি ছয়) করলেও তা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না। ভারতের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে ৪০.২ ওভারে ৩১১ রানেই গুটিয়ে যায় থমাস রিউয়ের দল।
- সফল বোলার: ভারতের হয়ে বল হাতে ভেলকি দেখান আরএস অম্বরীশ, তিনি একাই তুলে নেন ৩টি উইকেট। দীপেশ দেবেন্দ্রন ও কণিষ্ক চৌহান ২টি করে উইকেট দখল করেন। এছাড়া অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রে ও খিলান প্যাটেল ১টি করে উইকেট পান।
এক নজরে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বজয়ের ইতিহাস
| বছর | অধিনায়ক | প্রতিপক্ষ (ফাইনাল) |
| ২০০০ | মহম্মদ কাইফ | শ্রীলঙ্কা |
| ২০০৮ | বিরাট কোহলি | দক্ষিণ আফ্রিকা |
| ২০১২ | উনমুক্ত চাঁদ | অস্ট্রেলিয়া |
| ২০১৮ | পৃথ্বী শ | অস্ট্রেলিয়া |
| ২০২২ | যশ ধুল | ইংল্যান্ড |
| ২০২৬ | আয়ুষ মাত্রে | ইংল্যান্ড |
আগামীকাল থেকে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন ভারতের সিনিয়র দলের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হচ্ছে। তার আগে ছোটদের এই বিশ্বজয় বড়দের বাড়তি অক্সিজেন জোগাবে বলেই মনে করছে ক্রিকেট মহল।

