মাত্র ১৪ বছর বয়সেই বিশ্ব ক্রিকেটের নজর কেড়ে নিলেন ভারতের বৈভব সূর্যবংশী। ছোটদের বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাত্র ৮০ বলে ১৭৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ভারতকে শিরোপা এনে দেওয়ার পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সেরা ক্রিকেটারের (ম্যান অফ দ্য টুর্নামেন্ট) সম্মানও পকেটে পুরলেন এই তরুণ তুর্কি। বিশ্বজয়ের আনন্দমাখা মুহূর্তেই নিজের এই সাফল্য দলের কোচদের উৎসর্গ করে ‘গুরুদক্ষিণা’ দিলেন বৈভব।
সাফল্যের কৃতিত্ব কোচদের
পুরস্কার হাতে নিয়ে বৈভব আবেগপ্লুত কণ্ঠে জানান, এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। গত সাত-আট মাস ধরে দলের কঠোর পরিশ্রমের কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের কোচেরা এই দীর্ঘ সময় ছায়ার মতো আমাদের পাশে ছিলেন। প্রতিটি পদক্ষেপে আমাদের খেয়াল রেখেছেন, কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না তদারকি করেছেন। তাই আমার এই পুরস্কার আমি তাঁদেরই উৎসর্গ করছি।”
ধোনির সেই ‘প্রসেস’ মন্ত্রে আস্থা
মাঠে নেমে বৈভব কতটা পরিণত, তা বোঝা গেল তাঁর বক্তব্যে। ভারতের কিংবদন্তি অধিনায়ক মহেন্দ্র সিংহ ধোনির মতো তিনিও ফলের চেয়ে ‘পদ্ধতি’ বা ‘প্রসেস’-এর ওপর জোর দিয়েছেন। বৈভবের কথায়, “আমরা কখনও চাপের কথা ভাবিনি। শুধু ভেবেছি কীভাবে ভালো খেলা যায়। আমরা একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতি অনুসরণ করার চেষ্টা করেছি এবং নিজের দক্ষতার ওপর ভরসা রেখেছি।”
টানা আট-নয় মাস ধরে চলা প্রস্তুতির ধকলের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, এশিয়া কাপ থেকে শুরু করে বিশ্বকাপের ফাইনাল পর্যন্ত প্রতিটি ক্রিকেটার জানত তাদের লক্ষ্য কী।
ধারাবাহিকতা ও আত্মবিশ্বাস
পুরো প্রতিযোগিতায় রান পেলেও মাঝেমধ্যে ধারাবাহিকতার অভাব দেখা দিয়েছিল বৈভবের ব্যাটে। তবে বড় ম্যাচে জ্বলে ওঠার আত্মবিশ্বাস তাঁর ছিল। বৈভব বলেন, “নিজের দক্ষতার ওপর আমার পূর্ণ আস্থা ছিল। লক্ষ্য ছিল বড় ম্যাচগুলোতে অবদান রাখা, ঠিক যেমনটা ফাইনালে করতে পেরেছি। দল চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, এটাই সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
পরিসংখ্যানের পাতায় বৈভব
এবারের বিশ্বকাপে ব্যাট হাতে দাপট দেখিয়েছেন বৈভব সূর্যবংশী। এক নজরে দেখে নেওয়া যাক শীর্ষ রান সংগ্রাহকদের তালিকা:
| ক্রিকেটার | দল | ইনিংস | মোট রান |
| বেন মায়েস | ইংল্যান্ড | ৭ | ৪৪৪ |
| বৈভব সূর্যবংশী | ভারত | ৭ | ৪৩৯ |
| ফয়জল শিনোজ়াদা | আফগানিস্তান | ৬ | ৪৩৫ |
ফাইনালে ঝোড়ো ১৭৫ রানের ইনিংস খেলে বৈভব যেমন ১০টি ব্যক্তিগত নজির গড়েছেন, তেমনই ভারতকে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেটে বিশ্বসেরার শিরোপা এনে দিতে পালন করেছেন মুখ্য ভূমিকা।

