ভারতের ছোটরা যখন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে মাঠ কাঁপাচ্ছে, ঘড়ির কাঁটা তখন এক ঘণ্টা পেরিয়ে গিয়েছে। গোটা দেশ উৎসবে মাতলেও তখনও পর্যন্ত বিশ্বজয়ী দলের সদস্য অভিজ্ঞান কুণ্ডুর সঙ্গে কথা বলে উঠতে পারেননি তাঁর বাবা অভিষেক কুণ্ডু। মাঠের লড়াই শেষ হলেও লড়াই থামেনি অফিস ফেরত বাবার।
খেলা দেখার ফুরসত মেলেনি অফিসে
পেশাগত ব্যস্ততার কারণে রবিবার সকাল থেকেই অফিসে ছিলেন অভিষেক বাবু। ফলে ছেলের জীবনের অন্যতম সেরা মুহূর্তটি সরাসরি দেখার সুযোগ পাননি তিনি। রাত সওয়া ৯টা নাগাদ যখন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়, তখন তিনি গাড়ি চালিয়ে অফিস থেকে ফিরছিলেন। শান্ত গলায় তিনি জানান, “ও মনে হয় এখনও মাঠেই আছে, কথা হয়নি। আমারও কাজ শেষ করে ফিরতে দেরি হয়ে গেল।”
অ্যাকাডেমিতে উৎসবের আবহ
ছেলের সাফল্যে উচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়ার চেয়েও তাঁর প্রথম লক্ষ্য অভিজ্ঞানের কোচ চেতন যাদবের অ্যাকাডেমিতে যাওয়া। সেখানে অভিজ্ঞানের সতীর্থ ও অন্য ছাত্ররা মিলে দুপুর থেকেই ম্যাচ দেখেছে। ভারত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর সেই অ্যাকাডেমিতে এখন বাঁধভাঙা উল্লাস। অভিষেক বাবু বলেন, “স্যরের সঙ্গে দেখা করতে যাব, তবে উনিও আমাদের বাড়িতে চলে আসতে পারেন।”
বিশ্বজয় শেষ, এবার লক্ষ্য ‘টুয়েলভ’
মাঠে অভিজ্ঞানের শরীরী ভাষা যতটা সংযত ছিল, ঠিক ততটাই শান্ত তাঁর বাবা। বাড়িতে উৎসবের পরিকল্পনার কথা জিজ্ঞেস করতেই ভেসে এল এক অন্যরকম উত্তর। অভিষেক বাবুর কথায়, “আগে ও ফিরুক, তারপর ভাবা যাবে। আসলে এখন বেশি হুল্লোড় করা ঠিক হবে না। আগামী মঙ্গলবার থেকেই ওর ক্লাস টুয়েলভের ফাইনাল পরীক্ষা। বাড়ি ফিরেই ওকে পড়াশোনায় বসতে হবে।”
তিনি মজা করে আরও যোগ করেন, ছেলের সঙ্গে কথা হলে বাহবা দেওয়ার পরেই তাঁর প্রথম নির্দেশ হবে— ক’দিন খেলা ভুলে পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মন দেওয়া।
প্রত্যাবর্তন ও পরবর্তী সূচি
ছেলের ফেরা নিয়ে খুব বেশি তথ্য এখনও অভিষেক বাবুর কাছে নেই। তিনি জানান, “কবে বা কখন ফ্লাইট, তা এখনও জানি না। তবে রবিবার ওদের ফেরার কথা রয়েছে। বাড়ি গিয়ে দেখি উৎসবের কী আয়োজন করা যায়।”
মাঠের লড়াইয়ে বিশ্বজয় করলেও, একজন আদর্শ অভিভাবকের মতো ছেলের শিক্ষাজীবন এবং শৃঙ্খলার বিষয়ে অভিষেক বাবুর এই সতর্কতা নজর কেড়েছে ক্রীড়াপ্রেমীদের।

