খড়্গপুর টাউন থানার সিভিক ভলান্টিয়ার তুলসী রাও ওরফে উদয় খুনের ঘটনায় যবনিকা টানল পুলিশ। দীর্ঘ তল্লাশির পর এই মামলার সর্বশেষ পলাতক অভিযুক্ত মহম্মদ জাভেদকে (২৬) মহারাষ্ট্রের থানে থেকে গ্রেফতার করেছে খড়্গপুর টাউন থানার একটি বিশেষ দল। এর আগে এই মামলায় মূল অভিযুক্ত শেখ শারফুদ্দিন-সহ আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। জাভেদের গ্রেফতারির ফলে এই খুনের ঘটনায় নাম থাকা ছয় অভিযুক্তই এখন পুলিশের জালে।
থানের চা দোকান থেকে পাকড়াও
পুলিশ সূত্রে খবর, গত ১৬ ডিসেম্বরের ঘটনার পর থেকেই গা-ঢাকা দিয়েছিল জাভেদ। মোবাইল টাওয়ার লোকেশন ও আত্মীয়দের ফোনে আড়ি পেতে পুলিশ জানতে পারে, সে মহারাষ্ট্রের থানে এলাকায় ‘এল অ্যান্ড টি’ (L&T) সংস্থায় শ্রমিকের কাজ নিয়েছে। এসআই দীপক নস্করের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দল সাদা পোশাকে সেখানে পৌঁছায়। বুধবার সন্ধ্যায় কর্মস্থলের কাছের একটি চা দোকান থেকে জাভেদকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার তাকে গীতাঞ্জলী এক্সপ্রেসে করে খড়্গপুরে নিয়ে আসা হয়।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত ১৬ ডিসেম্বর ভোরে খড়্গপুর স্টেশনের কাছে একটি চা দোকানে বন্ধুদের সঙ্গে চা খেতে গিয়েছিলেন সিভিক ভলান্টিয়ার উদয়। সেখানে একদল যুবকের সঙ্গে তাঁর বচসা বাধে এবং তিনি নৃশংসভাবে প্রহৃত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে ওড়িশার কটকের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে গত ২৭ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খড়্গপুর জুড়ে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয় এবং বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে টাউন থানার সামনে বিক্ষোভ দেখানো হয়।
পুলিশের সাংবাদিক বৈঠক
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় খড়্গপুর টাউন থানায় একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন এসডিপিও ধীরজ ঠাকুর ও আইসি পার্থসারথি পাল। এসডিপিও জানান:
- গ্রেফতারি: মহম্মদ জাভেদকে থানে থেকে ৪ দিনের ট্রানজিট রিমান্ডে আনা হয়েছে।
- আদালতে পেশ: শুক্রবার তাকে খড়্গপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে।
- অন্যান্য অভিযুক্ত: মূল অভিযুক্ত শেখ শারফুদ্দিন, রাহুল শ্রীবাস্তব, রৌশন সাহু, রোহন শঙ্কর ও সোনু সোনকার বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছে।
খড়্গপুর পুলিশের এই তৎপরতায় স্বস্তি ফিরেছে মৃত সিভিক ভলান্টিয়ারের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে। মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া এখন দ্রুত শেষ করে চার্জশিট জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে পুলিশ।

