নির্বাচনের আগে তপ্ত কেশপুর: বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ, উত্তাল মেদিনীপুর

নির্বাচনের আগে তপ্ত কেশপুর: বিজেপি কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ, উত্তাল মেদিনীপুর

বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজতেই ফের রাজনৈতিক সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে উঠল পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশপুর। মঙ্গলবার বিকেলে কেশপুরের আনন্দপুর থানার রামকাটা এলাকায় বিজেপি কর্মীদের ওপর সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় অন্তত ১২ জন বিজেপি কর্মী গুরুতর জখম হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার প্রতিবাদে রাতভর মেদিনীপুরে পুলিশ সুপারের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।

ঘটনার বিবরণ ও বিজেপির অভিযোগ

বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে আনন্দপুরের রামকাটা এলাকায় দলীয় কর্মীদের নিয়ে একটি অভ্যন্তরীণ সাংগঠনিক বৈঠক চলছিল। অভিযোগ, বৈঠক চলাকালীনই কিছু তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতী এলাকায় রেইকি করে যায়। বৈঠক শেষে কর্মীরা যখন বাড়ি ফিরছিলেন, সেই সময় প্রায় ৫০ জনের একটি দল লাঠি ও বাঁশ নিয়ে তাঁদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।

বিজেপির ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার সভাপতি তন্ময় দাসের দাবি:

  • হামলায় মোট ১৫ জন কর্মী আহত হয়েছেন।
  • ১২ জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
  • হামলাকারীরা কর্মীদের মারধরের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করে।

বিজেপির স্থানীয় মণ্ডল সভাপতি তাপস অধিকারীর অভিযোগ, “পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে। কর্মীরা বৈঠক থেকে বেরোনো মাত্রই তাঁদের ওপর আক্রমণ করা হয়।”

তৃণমূলের পাল্টা দাবি

হামলার সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। জেলা পরিষদ সদস্য তথা তৃণমূল নেতা মহম্মদ রফিক পালটা দাবি করেছেন, “সেদিন বিজেপি কর্মীরা ওই এলাকায় পিকনিক করতে এসেছিলেন। সেখানে মদ্যপান নিয়ে নিজেদের মধ্যে বিবাদ বাধে এবং তাঁরা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। এর সঙ্গে তৃণমূলের কোনো সংর্স্পশ নেই। নিজেদের দোষ ঢাকতে শাসকদলের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে।”

পুলিশের ভূমিকা ও বর্তমান পরিস্থিতি

মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত এই ঘটনায় পুলিশের কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ জমা পড়েনি বলে জেলা পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে। তবে বিজেপির অভিযোগ, তারা থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে উল্টে তাদেরই হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিজেপি কর্মীরা দীর্ঘক্ষণ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ চালান।

পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.