নজিরবিহীন নজির সুপ্রিম কোর্টে: এসআইআর মামলায় সওয়াল করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

নজিরবিহীন নজির সুপ্রিম কোর্টে: এসআইআর মামলায় সওয়াল করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ভারতীয় বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল সুপ্রিম কোর্ট। বুধবার এই প্রথমবার কোনো রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে খোদ মামলাকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে সওয়াল করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের ‘স্পেশাল ইন্টার‍্যাক্টিভ রিভিশন’ (SIR) বা ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত প্রক্রিয়া নিয়ে শীর্ষ আদালতে নিজের বক্তব্য পেশ করেন তিনি।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও তৃণমূলের অবস্থান

এদিনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানায় যে, বর্তমান পদ্ধতিতে এসআইআর পরিচালনা করা সম্ভব নয়। প্রয়োজনে এই প্রক্রিয়ার সময়সীমা বাড়ানোর ইঙ্গিতও দিয়েছে আদালত। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ দেওয়ার পাশাপাশি কমিশনের আধিকারিকদের আরও ‘মানবিক’ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আইনি লড়াইয়ের সরাসরি সম্প্রচার (Live Streaming) করা হয়। শুনানি শেষে মুখ্যমন্ত্রী সংবাদমাধ্যমে মুখ না খুললেও, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বিষয়টিকে ‘নৈতিক জয়’ হিসেবে দাবি করা হয়েছে। দলের অফিসিয়াল এক্স হ্যান্ডেলে সওয়াল-জবাবের ভিডিও পোস্ট করে একে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরা হয়।

বিরোধীদের তীব্র আক্রমণ

মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বাদানুবাদ। বিজেপি এবং সিপিএম—উভয় পক্ষই এই ঘটনাকে ‘নাটক’ এবং ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে কটাক্ষ করেছে।

বিজেপির প্রতিক্রিয়া:

  • সুকান্ত মজুমদার: কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি সফরকে উত্তম কুমারের ফ্লপ সিনেমা ‘ছোটি সি মুলাকাত’-এর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, “দিদির এই সফর পুরোপুরি ব্যর্থ।” নির্বাচন কমিশনারকে ইম্পিচমেন্ট করার যে ইঙ্গিত মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছেন, তার প্রেক্ষিতে সুকান্তবাবুর প্রশ্ন, “ইম্পিচমেন্টের জন্য প্রয়োজনীয় সাংসদ সংখ্যা কি বিরোধীদের আছে?”
  • শমীক ভট্টাচার্য: বিজেপির রাজ্য সভাপতি দাবি করেন, এই মামলার মাধ্যমে অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের একটি বার্তা দেওয়া হয়েছে যে রাজ্য সরকার তাদের পাশে আছে। পশ্চিমবঙ্গের সাধারণ মানুষের সঙ্গে তৃণমূলের কোনো যোগ নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

সিপিএমের প্রতিক্রিয়া:

  • সুজন চক্রবর্তী: বাম নেতা সুজন চক্রবর্তী মুখ্যমন্ত্রীর এই পদক্ষেপকে ‘লোক দেখানো’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এসআইআর প্রক্রিয়া যখন শেষের পথে, তখন কেন হঠাৎ এই সক্রিয়তা? তাঁর দাবি, ২০২৬ সালের ড্রাফট ভোটার লিস্ট অনুযায়ী নির্বাচন হওয়া উচিত। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে ব্যর্থ হয়ে এখন কালো পোশাক পরে সহানুভূতির রাজনীতি করছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.