ঢাকুরিয়া-কাকুলিয়া সংঘর্ষ: পুলিশের ‘নিষ্ক্রিয়তা’ ও মূল অভিযুক্তের পলাতক থাকা নিয়ে সরব বিজেপি

ঢাকুরিয়া-কাকুলিয়া সংঘর্ষ: পুলিশের ‘নিষ্ক্রিয়তা’ ও মূল অভিযুক্তের পলাতক থাকা নিয়ে সরব বিজেপি

গত ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট সন্ধ্যার উত্তাপ ছাপিয়ে দক্ষিণ কলকাতার ঢাকুরিয়া ও কাকুলিয়া এলাকা রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল। বোমা, বন্দুক এবং গুলির লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় এবার সরাসরি তৃণমূলের মদতপুষ্ট ‘দুষ্কৃতীরাজ’-কে দায়ী করল বিজেপি। রাজ্য বিজেপির প্রধান মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার অভিযোগ করেছেন, পুলিশের সদিচ্ছার অভাবেই ঘটনার ৭২ ঘণ্টা পরও মূল অভিযুক্ত অধরা।

কাঠগড়ায় ‘সোনপাপ্পু’ ও তৃণমূল ঘনিষ্ঠতা

বিজেপি মুখপাত্রের নিশানায় রয়েছেন বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে “সোনপাপ্পু”। দেবজিৎ সরকারের দাবি:

  • সোনপাপ্পু দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল নেতৃত্ব, স্থানীয় কাউন্সিলর এবং একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
  • তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক গুরুতর অভিযোগ এবং খুনের মামলা থাকলেও, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকার কারণে পুলিশ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
  • রাজনৈতিক প্রশ্রয়েই তিনি এলাকায় নিজের একাধিপত্য কায়েম করেছেন বলে অভিযোগ।

পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন

ঘটনার পর পুলিশ দশজনকে গ্রেপ্তার করলেও মূল পাণ্ডা সোনপাপ্পু এখনও পলাতক। এই বিষয়টি নিয়ে পুলিশের দক্ষতা ও সদিচ্ছাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে দেবজিৎ সরকার বলেন, “কলকাতা পুলিশের নাগালের বাইরে মূল অভিযুক্তের থাকাটা অস্বাভাবিক। এটা কি পুলিশের অক্ষমতা নাকি রাজনৈতিক চাপে নিষ্ক্রিয় থাকা?”

লাইভ ভিডিওতে ‘হুমকি’ ও ‘লম্বা চেইন’

অভিযুক্ত সোনপাপ্পুর একটি ফেসবুক লাইভ ভিডিওর প্রসঙ্গও টেনে আনে বিজেপি। ওই ভিডিওতে তাঁকে জনতা ও পুলিশকে কার্যত হুমকি দিয়ে বলতে শোনা গেছে— “আমার চেইন অনেক লম্বা”। বিজেপি মুখপাত্রের মতে, এই মন্তব্যই প্রমাণ করে যে শাসকদলের ‘আশীর্বাদ’ মাথায় থাকায় অপরাধীরা আইনকে বিন্দুমাত্র পরোয়া করছে না।

বিজেপির দাবি

বিজেপির পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, এই ঘটনা সাধারণ কোনো অশান্তি নয়, বরং এটি পরিকল্পিত অপরাধ। অবিলম্বে মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার এবং এলাকার আইনশৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে পুলিশকে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অ্যাডভোকেট দেবজিৎ সরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.