“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গল গ্রহে গেলেও এসআইআর প্রক্রিয়া থামবে না”: শমীক ভট্টাচার্য

“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গল গ্রহে গেলেও এসআইআর প্রক্রিয়া থামবে না”: শমীক ভট্টাচার্য

পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি সফরের কড়া সমালোচনা করলেন রাজ্যসভার সাংসদ তথা বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, জনদৃষ্টিকে বিভ্রান্ত করতেই মুখ্যমন্ত্রী এই ‘নাটকীয়তার’ আশ্রয় নিচ্ছেন।

‘এসআইআর’ নিয়ে অনড় বিজেপি

শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান যে, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ কেন্দ্রীয় সরকারের এসআইআর প্রক্রিয়ার পক্ষেই আছেন। তিনি বলেন:

“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মঙ্গল গ্রহে যান বা অ্যান্টার্কটিকায়—এসআইআর প্রক্রিয়া চলবেই। রাজ্যের মানুষের বার্তা পরিষ্কার— ‘নো এসআইআর, নো ভোট’। দেশের ১২টি রাজ্যে এই প্রক্রিয়া শান্তিতে চললেও কেবল পশ্চিমবঙ্গেই কেন অশান্তি তৈরি করা হচ্ছে?”

২০০৫ সালের স্মৃতি মনে করিয়ে কটাক্ষ

মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে শমীকবাবু মনে করিয়ে দেন ৪ আগস্ট, ২০০৫ সালের একটি ঘটনার কথা। তিনি বলেন, সেদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই অভিযোগ করেছিলেন যে ভোটার তালিকা বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীতে ভরা।

  • সেদিন: ভোটার তালিকা শুদ্ধিকরণের দাবিতে বিধানসভায় স্পিকারের দিকে কাগজ ছুড়ে দিয়েছিলেন।
  • আজ: সেই একই তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে তিনি দিল্লি গিয়েছেন। বিজেপি নেতার মতে, এটি রাজনৈতিক ‘ভণ্ডামি’র এক জ্বলন্ত উদাহরণ।

সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গ

পশ্চিমবঙ্গের ২২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সংবেদনশীল সীমান্তের প্রসঙ্গ টেনে শমীক ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, তৃণমূল কংগ্রেসের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের নাম ভোটার তালিকায় সুরক্ষিত রাখা। তাঁর দাবি:

  1. ভোটার তালিকা সংশোধনে বাধা দিতে বিএলও (BLO)-দের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
  2. কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের ওপর পরিকল্পিতভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে।
  3. বিএসএফ-কে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জমি দিতে রাজ্য সরকার বাধা দিচ্ছে।

রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা

রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিজেপি সভাপতি একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনেন:

  • কলকাতা অগ্নিকাণ্ড: কলকাতায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের শিকার মানুষদের দেখতে না গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী দিল্লিতে রাজনীতি করতে গিয়েছেন।
  • বিস্ফোরক অভিযোগ: তৃণমূলের বিধায়করা হিন্দুদের হুমকি দিচ্ছেন এবং মন্ত্রীরা বিতর্কিত ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।
  • জালিয়াতি: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে উদ্ধার হওয়া ভুয়ো ভোটার কার্ডের সূত্র পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত বলে তিনি দাবি করেন। কালিয়াচকে জাল মুদ্রা উদ্ধার এবং আদিবাসী সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে চলা সামাজিক অপরাধের হার বৃদ্ধি নিয়েও তিনি তোপ দাগেন।

শমীক ভট্টাচার্যের মতে, তৃণমূল সরকার এখন পরাজয়ের ভয়ে সত্য গোপন করার চেষ্টা করছে, তবে তদন্তকারী সংস্থার বৈধ কাজকর্মে বাধা দিয়ে লাভ হবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.