কমিশন সূত্রে জানানো হয়েছে, ১৪ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর যদি কোনো ভোটারের নাম সেখানে না থাকে, তবে তিনি লিখিত আবেদন করতে পারবেন।
- আবেদন পদ্ধতি: প্রথমে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচনী আধিকারিক (DEO) এবং পরবর্তীতে প্রয়োজন হলে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) কাছে আবেদন জানানো যাবে।
- সময়সীমা: বিধানসভা ভোটের আগে তালিকায় নাম নথিভুক্ত করতে হলে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের ১৫ দিনের মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।
- নতুন ভোটার: যাঁরা প্রথমবারের মতো নাম তুলছেন, তাঁদের জন্য আবেদনের শেষ তারিখ ধার্য করা হয়েছে ৪ ফেব্রুয়ারি।
খসড়া তালিকায় ব্যাপক নাম সংশোধন
গত ২৭ অক্টোবরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী রাজ্যে মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৩৭ হাজার ৫২৯ জন। তবে সাম্প্রতিক খসড়া তালিকায় নাম রয়েছে ৭ কোটি ৮ লক্ষ ১৬ হাজার ৬৩১ জনের। অর্থাৎ, প্রায় ৫৮ লক্ষ ২০ হাজার ৮৯৮ জনের নাম বাদ পড়েছে। কমিশন জানিয়েছে, মৃত, স্থানান্তরিত, নিখোঁজ এবং ভুয়ো ভোটারদের পাশাপাশি যাঁরা এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করেননি (প্রায় ৫৭,৬০৪ জন), তাঁদের নামও এই তালিকায় নেই।
নতুন ফর্ম ও ২০০২ সালের যোগসূত্র
যাঁরা আগে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করেননি, তাঁদের এখন নতুন করে নাম তুলতে গেলে ৬ নম্বর ফর্মের (Form 6) পাশাপাশি আরও একটি বিশেষ ফর্ম পূরণ করতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় কিছু নিয়ম কঠোর করা হয়েছে: ১. ঐতিহাসিক যোগসূত্র: আবেদনকারীর নিজের অথবা তাঁর বাবা-মা বা ঠাকুরদা-ঠাকুরমার মধ্যে যে কোনো একজনের নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় ছিল কি না, তার তথ্য দিতে হবে। ২. নথিপত্র: জন্ম তারিখের প্রমাণের পাশাপাশি অভিভাবকদের ভোটার কার্ডের তথ্য বাধ্যতামূলক। ৩. আধার তথ্য: এনুমারেশন ফর্মে আধার নম্বর দেওয়ার ঐচ্ছিক জায়গা থাকলেও, এই নতুন ফর্মে সেই অংশটি রাখা হচ্ছে না।
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও রণকৌশল
ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়া নিয়ে রাজনৈতিক পারদ চড়ছে। মঙ্গলবার দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “আমরা এক ইঞ্চি জমিও ছাড়ব না। শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব।” চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর তৃণমূল কংগ্রেস তাদের পরবর্তী রণকৌশল স্থির করবে বলে তিনি জানান।

