পুরুলিয়ায় বরফ! দেখতে ভিড় স্থানীয়দের, আগে কখনও দেখেছেন? মনে করতে পারছেন না কেউই

পুরুলিয়ায় বরফ! দেখতে ভিড় স্থানীয়দের, আগে কখনও দেখেছেন? মনে করতে পারছেন না কেউই

দার্জিলিং বা কার্শিয়াং নয়, প্রবল ঠান্ডায় পুরুলিয়ায় দেখা গেল বরফের আস্তরণ! পরিভাষায় যাকে বলে ভূমি তুষার। খড়ের গাদায় হালকা তুষারের আস্তরণ দেখতে ভিড় ঝালদায়। দিন দুয়েক আগে ওই জেলার বান্দোয়ানেও বরফ দেখা গিয়েছে। রবিবার সকালে তুষারের পুরু আস্তরণ দেখা গেল ঝালদা ব্লক এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে খবর, ঝালদা থেকে খামার যাওয়ার রাস্তার ধারে খড়ের গাদার উপর হালকা তুষারের আস্তরণ দেখতে পান প্রাতর্ভ্রমণকারীরা। ক্রমে লোক জমে যায় এলাকায়। পুরুলিয়ায় হাড়কাঁপানো ঠান্ডা পড়লেও এমন ব্যতিক্রমী ঘটনা এই প্রথম বলে জানাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

২০২৫ সালের শেষ সপ্তাহ থেকেই জাঁকিয়ে ঠান্ডা পড়েছে রাজ্যের পশ্চিমের জেলাগুলিতে। নতুন বছরের দ্বিতীয় সপ্তাহেও পুরুলিয়া ও বাঁকুড়া জেলায় তীব্র শীত অনুভূত হচ্ছে। ঠান্ডায় কার্যত জবুথবু দুই জেলার মানুষ। এখন বাঁকুড়া জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা গড়ে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পুরুলিয়া জেলায় তাপমাত্রার গড় পতন আরও বেশি। চলতি সপ্তাহেই পুরুলিয়া শহরেরই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৫ থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে। গ্রামগুলিতে ঠান্ডা আরও বেশি। পুরুলিয়ার বান্দোয়ান এবং ঝালদা ব্লকের পাহাড়ি-পাথুরে এলাকায় কোথাও কোথাও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা মাঝেমধ্যে হিমাঙ্কের সীমা ছুঁয়ে ফেলছে। মাঝেমধ্যে ভূমি তুষারের দেখা মিলছে বান্দোয়ান ও ঝালদা ব্লক এলাকায়। শনিবার সকালে পুরুলিয়ার বান্দোয়ান ব্লকের পাহাড় ও জঙ্গলঘেরা ডাঙ্গা এলাকায় মাটির উপর হালকা তুষারের আস্তরণ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে রবিবার ঝালদা ব্লকের খামার যাওয়ার রাস্তার ধারে একটি খড়ের গাদার উপর সাদা তুষারের আস্তরণ দেখতে পান প্রাতর্ভ্রমণকারীরা। ‘বরফ পড়ার’ কথা মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়তেই তুষারের আস্তরণ চাক্ষুষ করতে ভিড় জমাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

খামার গ্রামের বাসিন্দা ঠাকুরদাস মাহাতো বলেন, ‘‘সকালে হাঁটতে বেরিয়ে দেখি, খড়ের গাদায় সাদা সাদা আস্তরণ জমেছে। শিশির তো এমন হয় না! কাছে গিয়ে হাত দিয়ে তুলে বুঝতে পারলাম, সাদা আস্তরণগুলো আসলে বরফ। দারুণ ব্যাপার! আমরা তো উপভোগ করছি।’’ ঝালদা নামো পাড়ার বাসিন্দা বিমল কুইরি বলেন, ‘‘যা ঠান্ডা পড়েছে, তাতে আমাদের এলাকায় বরফ জমে যাচ্ছে।’’ তাঁর সহাস্য মন্তব্য, ‘‘রাজ্যের মানুষকে আর বড় খরচ করে কাশ্মীরে তুষারপাত দেখতে যেতে হবে না। এই শীতে ঝালদায় চলে এলেই বরফ দেখার আনন্দ উপভোগ করতে পারবেন।’’ বিশেষজ্ঞেরা জানাচ্ছেন, এমন মারকাটারি ঠান্ডায় পুরুলিয়ায় এই পরিস্থিতি জারি থাকার সম্ভাবনা প্রবল। বাঁকুড়া খ্রিস্টান কলেজের ভূগোলের অধ্যাপক সুব্রত পান বলেন, ‘‘আকাশ মেঘমুক্ত থাকলে দ্রুত তাপ বিকিরণের ফলে প্রবল শীতে অনেক সময় ভূমি সংলগ্ন এলাকার তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নীচে নেমে যায়। ফলে ভোরের দিকে সাময়িক সময়ের জন্য ঘাস বা খড়ের উপর জমা হওয়া শিশির জমে গিয়ে ভূমি তুষারের সৃষ্টি হয়ে থাকে। পার্বত্য ও পাহাড়ি এলাকায় শীতে এইধরনের ঘটনা মাঝেমধ্যেই ঘটে থাকে।’’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.