ভারত-সহ তিন ‘বন্ধু’ দেশের সঙ্গে কথা বলছেন ট্রাম্প, কমতে পারে ঘোষিত শুল্ক! হাতে মাত্র চার দিন, সমঝোতার অঙ্ক কী?

ভারত-সহ মোট তিনটি দেশের সঙ্গে শুল্ক নিয়ে আলোচনা চলছে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। এমনটাই দাবি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর একটি রিপোর্টে। তাতে বলা হয়েছে, ওই তিন দেশের সঙ্গে শুল্কের বিষয়ে সমঝোতার কথাবার্তা চলছে। ট্রাম্প শুল্ক আরোপের যে সময়সীমা ধার্য করেছেন, তার আর চার দিন বাকি। আগামী ৯ এপ্রিল থেকে বিদেশি পণ্যে বর্ধিত হারে শুল্ক নেবে ওয়াশিংটন। তার আগে তিন দেশের সঙ্গে ট্রাম্পের সমঝোতা হবে কি না, সেটা এখনও স্পষ্ট নয়।

সিএনএন-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত, ইজ়রায়েল এবং ভিয়েতনামের সঙ্গে সমঝোতার জন্য কথা বলছেন ট্রাম্প। এদের মধ্যে ভিয়েতনামের সঙ্গে আলোচনার কথা সমাজমাধ্যমে নিজেই জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি, সমঝোতার স্বার্থে আমেরিকার পণ্য থেকে শুল্ক একেবারে তুলে নিতেও রাজি ভিয়েতনাম। বাকি দুই দেশের কথা অবশ্য ট্রাম্প কিছু বলেননি। সমাজমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘‘ভিয়েতনামের কমিউনিস্ট পার্টির জেনারেল সেক্রেটারি তো ল্যামের সঙ্গে এইমাত্র খুব ইতিবাচক একটা আলোচনা হল। তিনি আমাকে বলেছেন, যদি আমেরিকার সঙ্গে সমঝোতা হয়, ওরা মার্কিন পণ্যে শুল্কের পরিমাণ একেবারে শূন্য করে দিতে প্রস্তুত। আমাদের দেশের তরফে ওঁকে আমি ধন্যবাদ জানিয়েছি। বলেছি, খুব শীঘ্রই আমাদের দেখা হবে।’’

রিপোর্টে দাবি, ভারত এবং ইজ়রায়েলের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তলে তলে ট্রাম্প প্রশাসনের আলোচনা চলছে। যে শুল্কের পরিমাণ ট্রাম্প এই দেশগুলির জন্য ঘোষণা করেছেন, সমঝোতা হলে তা আরোপ করা না-ও হতে পারে। তবে সেই সমঝোতার জন্য হাতে আছে মাত্র চার দিন। ভারতের উপর ২৬ শতাংশ বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। ইজ়রায়েলের পণ্য থেকে ১৭ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের পণ্য থেকে ৪৬ শতাংশ শুল্ক নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। ৯ এপ্রিল রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে বিদেশি পণ্যে নতুন হারে শুল্ক কার্যকর করবে আমেরিকা।

সমঝোতার পথ যে প্রত্যেক দেশের জন্যই খোলা রয়েছে, শুল্ক ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সেই বার্তা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। জানিয়েছিলেন, কোনও দেশ যদি আমেরিকার জন্য অভূতপূর্ব কিছু করে, তবে অবশ্যই শুল্ক তুলে নেওয়ার কথা ভাববেন তিনি। তবে ট্রাম্পের সেই বার্তায় চিঁড়ে ভেজেনি। উল্টে ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা দিয়েছে চিন। তাদের পণ্যে ট্রাম্প ৩৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন। বৃহস্পতিবার বেজিং ঘোষণা করে, আমেরিকার পণ্যেও বাড়তি আরও ৩৪ শতাংশ শুল্ক নেওয়া হবে। এ ছাড়া, আমেরিকার ১১টি সংস্থার বাণিজ্য চিনে বন্ধ করে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। রাশ টানা হয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খনিজের রফতানিতেও। এ ছাড়া, আমেরিকার গাড়ির উপর শুল্ক ঘোষণা করেছে কানাডা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.