মহিলা প্রিমিয়ার লিগের (WPL) মঞ্চে তৈরি হলো নতুন ইতিহাস। প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে শতরান করার নজির গড়লেন মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের ন্যাট সিভার-ব্র্যান্ট। তাঁর বিধ্বংসী ইনিংসে ভর করে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিল হরমনপ্রীত কৌরের দল। অন্যদিকে, রিচা ঘোষের লড়াকু ইনিংস সত্ত্বেও হারের হ্যাটট্রিক এড়াতে পারল না স্মৃতি মন্ধানার আরসিবি।
মুম্বইয়ের ব্যাটিং তান্ডব ও ব্র্যান্টের সেঞ্চুরি
মঙ্গলবার টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নেন বেঙ্গালুরু অধিনায়ক স্মৃতি মন্ধানা। শুরুতে মুম্বইয়ের ওপেনার সজীবন সজনা (৭) দ্রুত ফিরলেও, দ্বিতীয় উইকেটে হেইলি ম্যাথিউজ এবং ন্যাট সিভার-ব্র্যান্টের ১৩১ রানের জুটি ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
ম্যাথিউজ ৩৯ বলে ৫৬ রান করে আউট হলেও, অন্য প্রান্তে অবিচল ছিলেন ব্র্যান্ট। মাত্র ৫৭ বলে ১০০ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি, যা ১৬টি চার এবং ১টি ছক্কায় সাজানো ছিল। এটিই ডব্লিউপিএল-এর ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তিগত শতরান। অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর করেন ২০ রান। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯৯ রান তোলে মুম্বই। বেঙ্গালুরুর হয়ে লরেন বেল ২১ রানে ২ উইকেট নেন।
আরসিবির ব্যাটিং বিপর্যয় ও রিচার লড়াই
২০০ রানের পাহাড়প্রমাণ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের মুখে পড়ে আরসিবি। মাত্র ৩৫ রানের মধ্যেই দলের প্রথম ৫ ব্যাটার প্যাভিলিয়নে ফিরে যান। ব্যর্থ হন অধিনায়ক মন্ধানা (৬), গ্রেস হ্যারিস (১৫) এবং জর্জিয়া ভল (৯)।
এই কঠিন পরিস্থিতিতে পাল্টালড়াই শুরু করেন বাংলার তারকা ব্যাটার রিচা ঘোষ। উইকেটরক্ষক-ব্যাটার রিচা ৫০ বলে ৯০ রানের একটি অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেন, যাতে ছিল ১০টি চার ও ৬টি ছক্কা। তবে অন্য প্রান্ত থেকে যোগ্য সঙ্গত না পাওয়ায় দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে পারেননি তিনি। শেষদিকে ক্লার্ক (২৮) এবং শ্রেয়াঙ্কা পাতিল (অপরাজিত ১২) কিছুটা চেষ্টা করলেও ৯ উইকেটে ১৮৪ রানেই থামে আরসিবির ইনিংস। ১৫ রানে জয়ী হয় মুম্বই।
এক নজরে ম্যাচের পরিসংখ্যান
| ক্রিকেটার | রান/উইকেট | বিশেষত্ব |
| ন্যাট সিভার-ব্র্যান্ট | ১০০ (৫৭ বল) | WPL ইতিহাসের প্রথম শতরান |
| রিচা ঘোষ | ৯০ (৫০ বল) | আরসিবির পক্ষে সর্বোচ্চ রান |
| হেইলি ম্যাথিউজ | ৫৬ রান ও ৩/১০ | অলরাউন্ড পারফরম্যান্স |
| লরেন বেল | ২/২১ | আরসিবির সফল বোলার |
মুম্বইয়ের হয়ে বল হাতেও ম্যাথিউজ ছিলেন অনন্য, মাত্র ১০ রান দিয়ে তুলে নেন ৩টি উইকেট। এছাড়া শবনিম ইসমাইল ও অ্যামেলিয়া কের ২টি করে উইকেট দখল করেন।

