অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের মঞ্চে ইতিহাস গড়েছে ভারত। আর সেই সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিহারের সমস্তিপুরের ১৪ বছর বয়সী বিস্ময় বালক বৈভব সূর্যবংশী। ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাত্র ৮০ বলে ১৭৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটারের (Player of the Tournament) খেতাব জিতে নিয়েছেন তিনি। তবে এই সাফল্যকে কেবল শুরু হিসেবেই দেখছেন এই উদীয়মান তারকা।
ফাইনালে স্নায়ুর চাপ ও কৌশল
ফাইনালে টসের আগে এবং আগের রাতে চরম উত্তেজনার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন বৈভব। একটি ক্রীড়া ওয়েবসাইটকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, “ফাইনালের আগের রাতে মাত্র এক-দুই ঘণ্টা ঘুমাতে পেরেছি। বিসিসিআই-এর নিয়ম অনুযায়ী, ভারতীয় ক্রিকেটাররা একবারই অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পায়। তাই এই একটি সুযোগকেই আমরা স্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছিলাম।”
ক্রিজে ব্যাটিংয়ের সময় অধিনায়ক আয়ুষ মাত্রের সঙ্গে তাঁর পরিকল্পনা নিয়ে বৈভব বলেন, “শতরানের দোরগোড়ায় যখন ছিলাম, আয়ুষ ভাই আমাকে সিঙ্গলস নিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করতে বলেছিলেন। কিন্তু আমার পরিকল্পনা ছিল অন্য। আমি চেয়েছিলাম প্রথম ইনিংসেই ইংল্যান্ডকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিতে। যতক্ষণ ক্রিজে থাকব, আক্রমণাত্মক খেলে ওদের চাপে রাখাই ছিল লক্ষ্য।”
অর্ধেক স্বপ্নপূরণ: লক্ষ্য এবার বড়দের বিশ্বকাপ
বিশ্বকাপ জয়ের পর নিজের আবেগকে সমাজমাধ্যমে তুলে ধরেছেন বৈভব। ট্রফি হাতে ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, “ব্যাটিং খুব উপভোগ করেছি, দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে ভালো লাগছে। তবে আমাকে আরও অনেক দূর যেতে হবে।”
বাবার সঙ্গে কথোপকথনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, “বাবাকে বলেছি আমার স্বপ্নের অর্ধেক পূরণ হয়েছে। ভারতের হয়ে সিনিয়র দলের বিশ্বকাপ খেলা এবং জেতাই এখন আমার চূড়ান্ত লক্ষ্য। বিশ্বের প্রতিটি ক্রিকেটারের মতো আমিও দেশের হয়ে সেই ট্রফি হাতে তুলতে চাই।”
এক নজরে বৈভবের পারফরম্যান্স ও ভারতের দাপট
- ফাইনাল স্কোর: ৮০ বলে ১৭৫ রান (বনাম ইংল্যান্ড)।
- দলের সংগ্রহ: ভারত নির্ধারিত ওভারে ৪১১ রান তোলে।
- বিসিসিআই নীতি: নিয়ম অনুযায়ী বৈভব আর কোনোদিন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ খেলতে পারবেন না, তাই তাঁর নজর এখন ঘরোয়া ক্রিকেট ও জাতীয় দলের দিকে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
সমস্তিপুরের এই কিশোর এখন নিজেকে বড় ফরম্যাটের ক্রিকেটের জন্য প্রস্তুত করতে চান। ১৪ বছর বয়সেই যে পরিণতবোধ তিনি দেখিয়েছেন, তাতে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন ভারতীয় ক্রিকেটের আগামীর মহাতারকা হওয়ার সব রসদই বৈভবের মধ্যে বিদ্যমান। ছোটদের বিশ্বকাপে রেকর্ড গড়া এই ইনিংস তাঁকে আইপিএল বা রঞ্জি ট্রফির মতো বড় মঞ্চে সুযোগ পাওয়ার দৌড়ে অনেকখানি এগিয়ে দিল।

