বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না খেললে বিকল্প দল কারা? স্কটল্যান্ডের সঙ্গে এখনও কথাই বলেনি আইসিসি

বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলবে কি না, তা জানানোর জন্য বুধবার পর্যন্ত সময় দিয়েছে আইসিসি। বাংলাদেশ সেই দাবি খারিজ করেছে। এর মধ্যেই উঠে এল নতুন তথ্য। জানা গিয়েছে, বিকল্প হিসাবে স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেওয়ার কথা ভাবা হলেও, সে দেশের সঙ্গে এখনও কথাই বলেনি আইসিসি। ফলে বিশ্বকাপ নিয়ে ধোঁয়াশা আরও বাড়ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র দাবি, বাংলাদেশ বিশ্বকাপে না খেলতে চাইলে তারা রাজি কি না, তা নিয়ে স্কটল্যান্ডকে কিছু জিজ্ঞাসাই করেনি আইসিসি। স্কটল্যান্ড ক্রিকেটের কর্তারাও এ নিয়ে নিজে থেকে আইসিসি-র সঙ্গে কোনও কথা বলেননি। এমন কোনও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও তাদের নেই।

টি-টোয়েন্টির র‌্যাঙ্কিংয়ের উপরের দিকে থাকলেও স্কটল্যান্ড বিশ্বকাপ খেলতে পারছে না। ইউরোপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে তারা শেষ করেছে চতুর্থ স্থানে। বিশ্বকাপে খেলছে নেদারল্যান্ডস এবং ইটালি। সম্প্রতি সে দেশের ক্রিকেটারেরা অনুশীলনে ফিরেছেন। মার্চে এক দিনের ত্রিদেশীয় সিরি‌জ় খেলার কথা নামিবিয়া এবং ওমানের সঙ্গে। তবে জানা গিয়েছে, যদি শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ আসে তা হলে স্কটল্যান্ডের ক্রিকেটারের তৈরি।

কোনও দল বিশ্বকাপ থেকে নাম তুলে নিলে বা তাদের বহিষ্কার করা হলে, কোন নিয়মের ভিত্তিতে পরিবর্ত দলকে নেওয়া হয় তা আইসিসি-র কাছে জানতে চেয়েছে বিবিসি। সেই উত্তর এখনও আসেনি। তবে আইসিসি-র কর্তাদের একাংশের যুক্তি, র‌্যাঙ্কিংয়ে উপর দিকে থাকার কারণেই স্কটল্যান্ড এই সুবিধা পাবে।

অতীতেও বিকল্প দল হিসাবে বিশ্বকাপ খেলেছে স্কটল্যান্ড। ২০০৯ বিশ্বকাপে রাজনৈতিক কারণে ইংল্যান্ডে খেলতে যায়নি জ়িম্বাবোয়ে। তখন স্কটল্যান্ডকে নেওয়া হয়েছিল।

উল্লেখ্য, সোমবারই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দাবি করেছে, সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য আইসিসি তাদের কোনও সময়সীমা বেঁধেই দেয়নি।

আইসিসির সঙ্গে বৈঠকে কী হয়েছিল, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিসিবির ডিরেক্টর আমজ়াদ হোসেন। তিনি বলেন, ‘‘গত শনিবার আইসিসির এক প্রতিনিধি আসেন। তাঁর সঙ্গে আমাদের (বিসিবি) প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়। সেখানে আমরা আরও এক বার পরিষ্কার করে আমাদের অবস্থান জানাই। বিশ্বকাপে খেলা নিয়ে আমরা কী ভাবছি, জানানো হয়। কেন ভারতে খেলা সম্ভব নয়, তার কারণও জানানো হয়। আমরা আগের মতোই আবার অনুরোধ করি, যেন আমাদের খেলা অন্য কোথাও দেওয়া হয়। এই নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। আইসিসির প্রতিনিধি তখন শুধু বলেছিলেন, বিষয়টি আইসিসিকে জানাবেন এবং ওঁরা কী সিদ্ধান্ত নেবেন, পরে সেটা আমাদের জানাবেন। কিন্তু কোনও নির্দিষ্ট তারিখ বা সময়সীমার কথা বলা হয়নি।’’

এর আগে সংবাদসংস্থা পিটিআই জানিয়েছিল, আইসিসি বাংলাদেশকে ২১ জানুয়ারির মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছে। না হলে প্রতিযোগিতা থেকে তাদের বাদ দেওয়া হতে পারে। এমনকী, বাংলাদেশ যদি শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে না খেলে, তা হলে পরিবর্ত দেশ হিসাবে নাকি স্কটল্যান্ডের কথাও ভেবে রেখেছে আইসিসি।

আইপিএল থেকে বাংলাদেশের জোরে বোলার মুস্তাফিজ়ুর রহমানকে বাদ দেওয়ার পর থেকে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বাংলাদেশ জানিয়ে দেয়, তারা ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ খেলবে না। শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করে তারা। তাতে রাজি হয়নি আইসিসি। এরপর বাংলাদেশ তাদের গ্রুপ বদলে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। বিশ্বকাপে তারা গ্রুপ সি-তে রয়েছে। এই গ্রুপে ওয়েস্ট ইন্ডিজ়, ইটালি, ইংল্যান্ড ও নেপাল আছে। এই গ্রুপের খেলা কলকাতা এবং মুম্বইয়ে। বিসিবি প্রস্তাব দিয়েছে, বাংলাদেশকে বি গ্রুপে সরিয়ে নিয়ে সেখান থেকে আয়ারল্যান্ডকে সি গ্রুপে রাখা হোক। কারণ, সি গ্রুপের সব খেলা শ্রীলঙ্কায় রয়েছে। কিন্তু আইসিসি এই প্রস্তাবও মানেনি। আয়ারল্যান্ডের ক্রিকেট বোর্ডও এতে রাজি হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.