পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন নির্বাচন কি একাধিক দফার বদলে এক দফাতেই সম্পন্ন হবে? আর এক দফায় ভোট হলে কি আদৌ কারচুপি আটকানো সম্ভব? রাজ্য রাজনীতিতে এই জল্পনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই দলের অবস্থান স্পষ্ট করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। তাঁর সাফ কথা, দফার সংখ্যা নিয়ে বিজেপি চিন্তিত নয়; বরং অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপরই ভরসা রাখছে পদ্ম শিবির।
শনিবার বালিগঞ্জে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বাসভবনে গিয়েছিলেন সুকান্ত মজুমদার। সুপারস্টারকে ‘পদ্ম’ সম্মান (পদ্মশ্রী) প্রাপ্তির জন্য শুভেচ্ছা জানাতেই তাঁর এই সৌজন্য সাক্ষাৎ। সেখান থেকে বেরোনোর সময় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নির্বাচনের রণকৌশল ও কারচুপি রোখার উপায় নিয়ে মুখ খোলেন তিনি।
দফার সংখ্যা বনাম কমিশনের ভূমিকা
নির্বাচন কমিশনের সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত নিয়ে সুকান্ত মজুমদার জানান, ভোট এক দফায় হবে নাকি পাঁচ দফায়, সে বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা তাঁদের কাছে আসেনি। তবে দফার বিন্যাস যাই হোক না কেন, গেরুয়া শিবির যে লড়াইয়ের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত, তা তিনি স্পষ্ট করে দেন।
রাজ্য পুলিশের ওপর অনাস্থা
ভোটের কারচুপি রোখার প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার ফের একবার রাজ্য পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাঁর দাবিসমূহ হলো:
- কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি: বুথের ভেতরে এবং বাইরে পর্যাপ্ত পরিমাণে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করতে হবে।
- বিকল্প ব্যবস্থা: যদি কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা কম থাকে, তবে অন্য রাজ্যের পুলিশ দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
- রাজ্য পুলিশ বর্জন: সুকান্ত মজুমদারের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, “পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ওপর নির্ভর করে এখানে স্বচ্ছ ভোট করানো সম্ভব নয়।”
রাজ্য সভাপতির এই মন্তব্যে পরিষ্কার যে, ভোট কত দফায় হবে তার চেয়েও বেশি নিরাপত্তা ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে বিজেপি। এখন দেখার, নির্বাচন কমিশন পশ্চিমবঙ্গের সংবেদনশীল পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত নেয়।

