রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর সাম্প্রতিক কিছু মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সুকান্ত মজুমদার বলেন, শিক্ষা নিয়ে ব্রাত্যবাবুর মুখ খোলা সাজে না। তাঁর দাবি, রাজ্যের স্কুলগুলিকে কার্যত ‘লাটে তুলে দেওয়া হয়েছে’।
কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর অভিযোগের মূল পয়েন্টগুলি হলো:
- স্কুল বন্ধ হওয়া: রাজ্যে কয়েক হাজার সরকারি স্কুল বন্ধ হয়ে গেছে।
- শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত: বহু স্কুলে শিক্ষক থাকলেও পড়ুয়া নেই। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, অনেক স্কুলে পাঁচজন শিক্ষকের বিপরীতে মাত্র তিনজন শিক্ষার্থী রয়েছে।
- বেসরকারি ঝোঁক: সরকারি স্কুলের করুণ অবস্থার কারণে সাধারণ মানুষ, এমনকি দিনমজুররাও কষ্ট করে তাঁদের সন্তানদের ‘ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা’ বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পাঠাচ্ছেন।
- শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হুলিগানিজম: স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃণমূলের ছাত্র সংগঠনের দাপাদাপি ও ‘হুলিগানিজম’ চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
পার্শ্ব শিক্ষকদের বঞ্চনা ও কেন্দ্রীয় বরাদ্দের অপব্যবহার
পার্শ্ব শিক্ষকদের দুরবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সুকান্ত মজুমদার প্রতিবেশী রাজ্য ওড়িশার সাথে পশ্চিমবঙ্গের তুলনা টানেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন্দ্র থেকে বরাদ্দকৃত টাকা কেন পার্শ্ব শিক্ষকদের হাতে পৌঁছাচ্ছে না?
“কেন্দ্রের পাঠানো পার্শ্ব শিক্ষকদের টাকা কেড়ে নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবুজ সাথীর মতো প্রকল্প চালাচ্ছেন। সর্বশিক্ষা মিশনের টাকাও রাজ্য সরকার নষ্ট করছে,” বলে দাবি করেন তিনি।
স্বাস্থ্যভবন ও ‘বাস্তিল দুর্গ’
আশা কর্মীদের সাম্প্রতিক স্বাস্থ্যভবন অভিযানে পুলিশের বাধা এবং বড় ব্যারিকেড প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যভবনকে ‘বাস্তিল দুর্গের’ সাথে তুলনা করেন সুকান্ত মজুমদার। ফরাসি বিপ্লবের সেই কুখ্যাত দুর্গের পতনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এই স্বাস্থ্যরূপী বাস্তিল দুর্গের পতন রাজ্যের সাধারণ মানুষই করবে।
আশা কর্মীদের উদ্দেশ্যে তাঁর বার্তা:
“আপনারা একত্রিত হোন। ভারতীয় জনতা পার্টি সরকার গঠন করলে আপনাদের সমস্ত সুখ-দুঃখের সুরাহা করা হবে।”
এক নজরে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর অভিযোগ
| ক্ষেত্র | অভিযোগের বিষয় |
| প্রাথমিক শিক্ষা | সরকারি স্কুলের অব্যবস্থা ও হাজার হাজার স্কুল বন্ধ হওয়া। |
| উচ্চশিক্ষা | ক্যাম্পাসগুলোতে তৃণমূল ছাত্র সংগঠনের দাপাদাপি। |
| পার্শ্ব শিক্ষক | কেন্দ্রীয় বরাদ্দ ডাইভার্ট করে অন্য প্রকল্পে খরচ করা। |
| স্বাস্থ্য ও আশা কর্মী | প্রশাসনিক স্তরে আন্দোলন দমন ও ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চনা। |

