২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের মোট রাজ্য অভ্যন্তরীণ উৎপাদন (NSDP) বৃদ্ধি পেয়ে ১৬.৩২ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার সংসদে পেশ করা কেন্দ্রীয় আর্থিক সমীক্ষা রিপোর্টে এই তথ্য জানানো হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, গত অর্থবর্ষের (২০২৩-২৪) ৮.৯৪ শতাংশ বৃদ্ধির হারের তুলনায় এবার প্রবৃদ্ধির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯.৮৬ শতাংশ।
বড় রাজ্যগুলোর তুলনায় বৃদ্ধির হারে ফারাক
রাজ্যের আর্থিক শ্রীবৃদ্ধি ঘটলেও জাতীয় স্তরে অন্যান্য বড় শিল্পোন্নত রাজ্যগুলোর তুলনায় পশ্চিমবঙ্গ অনেকটাই পিছিয়ে।
- তামিলনাড়ু: ১৫.৭৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি নিয়ে তালিকায় অনেক উপরে।
- উত্তরপ্রদেশ: ১২.৬৪ শতাংশ বৃদ্ধি।
- কর্ণাটক ও অন্ধ্রপ্রদেশ: যথাক্রমে ১২.৭৯ এবং ১২.২৮ শতাংশ এনএসডিপি বৃদ্ধি হয়েছে।
পূর্ব ভারতের প্রতিবেশী রাজ্যগুলোর চেয়েও মন্থর গতি
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, পূর্ব ভারতের প্রতিবেশী রাজ্যগুলি পশ্চিমবঙ্গের তুলনায় অনেক দ্রুত হারে আর্থিক উন্নতি করছে।
- বিহার: ১৩.০৭ শতাংশ বৃদ্ধি।
- ওড়িশা: ১৩.০৪ শতাংশ বৃদ্ধি।
- ঝাড়খণ্ড: ১০.৮৮ শতাংশ বৃদ্ধি।
অর্থাৎ, ভৌগোলিক অবস্থান ও বাণিজ্যিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও এই তিন প্রতিবেশী রাজ্যের প্রবৃদ্ধির হারের কাছে পশ্চিমবঙ্গ এবারও পিছিয়ে রইল।
ইতিবাচক দিক: পাঞ্জাব ও দিল্লির চেয়ে এগিয়ে বাংলা
সবক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকলেও উত্তর ভারতের কিছু গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের পারফরম্যান্স যথেষ্ট ভালো। সমীক্ষা অনুযায়ী, পাঞ্জাব (৯.১২ শতাংশ) এবং রাজধানী দিল্লির (৯.২৮ শতাংশ) তুলনায় পশ্চিমবঙ্গের এনএসডিপি বৃদ্ধির হার বেশি।
উল্লেখ্য, ২০২১-২২ সালে করোনা অতিমারি পরবর্তী পর্যায়ে পশ্চিমবঙ্গের এনএসডিপি বৃদ্ধির হার রেকর্ড ১৭.৫৫ শতাংশে পৌঁছেছিল। বর্তমান ৯.৮৬ শতাংশ বৃদ্ধি সেই তুলনায় কিছুটা কম হলেও তা ইতিবাচক স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। তবে প্রতিবেশী রাজ্যগুলির এই দ্রুত উত্থান পশ্চিমবঙ্গের ভবিষ্যৎ বাণিজ্যিক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে বলে রিপোর্টে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।

