ইরানে পরমাণু হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন! রাষ্ট্রপুঞ্জের কূটনীতিকের বিস্ফোরক দাবিতে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়

ইরানে পরমাণু হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ওয়াশিংটন! রাষ্ট্রপুঞ্জের কূটনীতিকের বিস্ফোরক দাবিতে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়

পশ্চিম এশিয়ায় ঘনীভূত হওয়া সংঘাতের মাঝেই এক হাড়হিম করা দাবি ঘিরে উত্তাল বিশ্ব রাজনীতি। ইরানকে নিয়ন্ত্রণে আনতে আমেরিকা এবার সে দেশে পারমাণবিক হামলার ছক কষছে— রাষ্ট্রপুঞ্জের (UN) এক প্রাক্তন কূটনীতিকের এই বিস্ফোরক তথ্যে আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ভয়াবহ পরিকল্পনার প্রতিবাদ জানিয়ে এবং বিশ্ববাসীকে সতর্ক করতে নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন ওই কূটনীতিক।

ট্রাম্পের হুঙ্কার ও নেপথ্য ষড়যন্ত্র

গত প্রায় এক মাস ধরে চলা পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে ইরানকে বাগে আনতে ব্যর্থ হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন চরম পথ বেছে নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর আগে ট্রাম্প খোলাখুলি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, হরমুজ প্রণালী না খুললে ইরানের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেলের খনি এবং খারগো দ্বীপ গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু পর্দার আড়ালে এবার সরাসরি পরমাণু হামলার প্রস্তুতি চলছে বলে দাবি করেছেন মহম্মদ সাফা।

কে এই মহম্মদ সাফা?

সাফা আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘প্যাট্রিয়টিক ভিশন’-এর এগজিকিউটিভ ডাইরেক্টর। এই সংস্থাটি রাষ্ট্রপুঞ্জের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের বিশেষ পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করে। ২০১৬ সাল থেকে সাফা রাষ্ট্রপুঞ্জে এই সংস্থার স্থায়ী প্রতিনিধি ও কূটনীতিক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক নীতি নির্ধারণে তাঁর বিশেষ ভূমিকা ছিল।

পদত্যাগ ও সামাজিক মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর পোস্ট

সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্টের মাধ্যমে নিজের পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেন মহম্মদ সাফা। তাঁর দাবি:

  • পরমাণু প্রস্তুতির প্রমাণ: রাষ্ট্রপুঞ্জের কিছু প্রভাবশালী মহল ইরানে সম্ভাব্য পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার নীল নকশা তৈরি করছে।
  • মানবতার আবেদন: তেহরান শহরের ছবি শেয়ার করে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, এটি কোনো জনমানবহীন মরুভূমি নয়; এখানে প্রায় এক কোটি মানুষের জীবন ও স্বপ্ন জড়িয়ে আছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “ওয়াশিংটন, বার্লিন বা লন্ডনে এমন হামলা হলে পরিস্থিতি কেমন হতো?”
  • বিবেকের তাড়না: সাফা জানান, তিনি এই ভয়াবহ অপরাধের নীরব সাক্ষী হয়ে থাকতে চান না বলেই নিজের সম্মানজনক কূটনৈতিক পদ বিসর্জন দিয়েছেন।

একঘরে করার অভিযোগ ও প্রাণনাশের হুমকি

সাফার দাবি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইজরায়েলে হামাসের হামলার পর বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণে তিনি ভিন্নমত পোষণ করায় তাঁকে নানা হেনস্থার শিকার হতে হয়। গত তিন বছর ধরে তাঁকে রাষ্ট্রপুঞ্জে কার্যত একঘরে করে রাখা হয়েছিল এবং তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে একাধিকবার প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এই প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণেই তিনি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হন।

এখনও পর্যন্ত মহম্মদ সাফার এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রপুঞ্জ বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এই দাবি যদি সত্যি হয়, তবে তা বিশ্বকে এক অপূরণীয় ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.